দাম না পেয়ে সাতক্ষীরার উপকূলে কোরবানির চামড়া মাটিচাপা
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানিকৃত পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং মাদরাসা-এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। ক্রেতা সংকট ও কম দামের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে চামড়া মাটিচাপা দিচ্ছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এমন চিত্র দেখা গেছে। শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আনা বেশ কিছু চামড়া উপকূলীয় নীলডুমুর বাজারের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, মাদরাসা ও এতিমখানার প্রতিনিধিরা। তবে দিনভর ঘুরেও আশানুরূপ ক্রেতা না পাওয়ায় অধিকাংশ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়। গরু, ছাগল ও খাসির চামড়ার চাহিদা না থাকায় অনেকে তা ফেলে দেন কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলেন।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার বাজার আরও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আড়তদাররা কম দামে চামড়া কিনতে চাইলেও পরিবহন ব্যয় ও লবণের উচ্চমূল্যের কারণে তারা চামড়া কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এতে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ীও পিছিয়ে যাচ্ছেন।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম ও বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদ্রাসার খতিব হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, “সারাদিন ও সারারাত অপেক্ষা করেও কেউ চামড়া নিতে আসেনি। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে।”
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন গাবুরা চাঁদনীমুখা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও।
স্থানীয় মাদরাসা ও এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, প্রতিবছর কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের খরচের একটি অংশ পরিচালনা করা হয়। কিন্তু এবার চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এদিকে সরকার কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, লবণ সহায়তা ও আড়ত ব্যবস্থাপনার অভাবে চামড়ার বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

মোঃ জাকির হোসাইন,সম্পাদক