কওমি মাদরাসা নিয়ে ‘একমুখী অপপ্রচার’ বন্ধে পর্যবেক্ষণ সেল ও হটলাইন চালুর ঘোষণা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ বিকাল
  • ৩১৮২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি মাদরাসাকে ঘিরে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ও অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত একমুখী প্রচারণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অভিযোগ যাচাই, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং কওমি মাদরাসাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তদারকির লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদরাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশেষ হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানী ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘কওমি মাদরাসা বিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় আল-হাইআতুল উলয়ার করণীয়’ শীর্ষক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভাটি আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংস্থাটির অধীন ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান।

সভায় বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ, অনিয়ম কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, লাখো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা উদ্বেগজনক।

বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক চরিত্র গঠন এবং সমাজসেবায় কওমি মাদরাসার দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় পুরো কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং নেতিবাচক ধারণা তৈরির অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সভা থেকে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো সংবাদ, ভিডিও, বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা প্রচার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় কওমি মাদরাসাসংক্রান্ত অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং প্রয়োজনীয় নথি গ্রহণের জন্য ০১৭০০-৭৬৩১৭৮ নম্বরে (হোয়াটসঅ্যাপ) একটি বিশেষ হটলাইন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এ নম্বরে বার্তা, ভয়েস কল, ছবি, ভিডিও এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠানো যাবে।

সভায় ছয়টি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদরাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি বোর্ড নিজ নিজ অধিভুক্ত মাদরাসার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে পৃথক ‘মাদরাসা মনিটরিং সেল’ গঠন করবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়। মাদরাসা পরিদর্শন ও মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ ছাড়া কওমি মাদরাসাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি ‘লিগ্যাল প্যানেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ সেলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আল্লামা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা মুহসিন শরীফ এবং মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।

সভায় এসব সদস্য ছাড়াও আল-হাইআতুল উলয়ার অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু. অছিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা কওমি মাদরাসার শিক্ষার মান, নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং নৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে অপরাধ, অনিয়ম ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং মিথ্যা অপবাদ বা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার নির্দোষ শিক্ষক, মুহতামিম ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দেওয়ার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad