প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে নতুন মোড়, যুক্ত হলো ৭ কঠোর শর্ত; বাদ গেল ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বিধান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৬ সকাল
  • ৬২১০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়ন নীতিমালায় আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিভিন্ন মহলের সমালোচনার পর বদলি ও পদায়ন কমিটি থেকে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার বিধান বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে দুজন বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিকে। একই সঙ্গে জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতে সাতটি নতুন শর্ত সংযোজন করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার জারি করা সংশোধিত নীতিমালার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২১ জুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি ও পদায়নের জন্য উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয়—এই চার স্তরের কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়। তবে অনলাইন পদ্ধতির পরিবর্তে ম্যানুয়াল ব্যবস্থা চালু এবং কমিটিতে সভাপতির মনোনীত দুজন ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। নীতিমালায় ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট না থাকায় বিতর্ক আরও বাড়ে।

সংশোধিত নীতিমালায় চার স্তরের কমিটির কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হলেও উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কমিটিতে ‘গণ্যমান্য ব্যক্তি’র পরিবর্তে দুজন করে বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা বা থানা কমিটির সভাপতি থাকবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিভাগীয় কমিশনার।

জাতীয় কমিটির নেতৃত্বেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। আগে এ কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব। সংশোধিত নীতিমালায় এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি)-কে। এছাড়া সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিদ্যালয়) এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন)।

বদলিতে যুক্ত হলো ৭ নতুন শর্ত

সংশোধিত নীতিমালায় শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো—

চাকরিতে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

একবার বদলি হওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে পুনরায় বদলির সুযোগ মিলবে না।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে শূন্য পদের বিপরীতে কেবল বদলি করা যাবে।

শিক্ষকের নিজস্ব আবেদন ছাড়া তাকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থ বা প্রশাসনিক বিশেষ প্রয়োজনে জাতীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যতিক্রম করা যাবে।

যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কম শিক্ষক রয়েছেন কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষককে বদলি করা যাবে না।

একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক বদলির আবেদন করলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনজন শিক্ষককে সংযুক্তি পদায়ন করা যাবে।

সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নারী শিক্ষকদের স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর বাড়ির নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রতি মাসে সভা, আন্তঃবিভাগ বদলি দেখবে জাতীয় কমিটি

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, বদলি কমিটিগুলোকে প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করে আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি করতে হবে। একই উপজেলা, জেলা বা বিভাগের মধ্যে বদলির আদেশ সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনে জারি হবে। আর আন্তঃবিভাগ ও সিটি করপোরেশন এলাকার বদলির আবেদন নিষ্পত্তি করবে জাতীয় কমিটি।

এছাড়া নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের লটারির মাধ্যমে পদায়নের দায়িত্ব জেলা কমিটির কাছেই বহাল রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন শর্ত ও সংশোধিত বিধান কার্যকর হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং তদবির ও অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad