ঈদ জামাতে প্রধানমন্ত্রী–রাষ্ট্রপতির আসন বিন্যাস নিয়ে আলোচনা, রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা
ঈদুল আজহার জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আসন বিন্যাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। ঈদুল ফিতরের জামাতের তুলনায় এবার দুই শীর্ষ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তির অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাওয়ায় এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও জল্পনা দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ঈদুল ফিতরের জামাতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পাশাপাশি অবস্থান করে নামাজ আদায় করেছিলেন। তবে ঈদুল আজহার জামাতে তাদের মধ্যে কয়েকটি আসনের ব্যবধান ছিল।
এ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিরা সাধারণত একই কাতারে অবস্থান করেন। তবে এবারের আসন বিন্যাসে ভিন্নতা দেখা যাওয়ায় বিভিন্ন মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আসন বিন্যাস নিরাপত্তা, প্রটোকল কিংবা প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে সম্প্রতি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্য সফরে যান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সফরকালে তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনের পর সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে কোনো সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দায়িত্বে বহাল রাখা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও সমালোচনা দেখা গেছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় তার নিয়োগ এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে। তবে রাষ্ট্রপতির পদ ও দায়িত্ব নিয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয়নি।
সার্বিকভাবে, ঈদ জামাতের আসন বিন্যাসকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা তৈরি হলেও প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সম্পর্ক কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে কোনো পরিবর্তন ঘটেছে—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক