দেশের মানুষ বিএনপির ওপরই আস্থা রেখেছে: মির্জা ফখরুল"

  • এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:১৬ দুপুর
  • ১৫৫১৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১-পূর্ব পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য, শোষণ ও বাঙালি জাতির ওপর চালানো সীমাহীন নির্যাতন কখনোই ক্ষমা করা সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, "শৈশব থেকেই আমরা পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্য, শোষণ ও বাঙালিদের ওপর নিপীড়নের চিত্র দেখেছি। সে সময় দেশের মানুষ মুক্তির আশায় একটি রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পরও জনগণ প্রত্যাশিত গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে।"

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন দেশের মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার সময় বাংলাদেশ নানা সংকট ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ও আত্মমর্যাদার ভিত্তি উপহার দিতে সক্ষম হন।

বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য, শহীদ জিয়া বাংলাদেশকে কোনো পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বী বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাননি। তিনি দেশের নিজস্ব সক্ষমতা ও জনগণের শক্তির ওপর বিশ্বাস করতেন। এ কারণেই সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, "জিয়াউর রহমান আমাদের যে আদর্শ ও পথ দেখিয়ে গেছেন, বিএনপি সেই পথ অনুসরণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেও আমরা শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন দেখতে পাই।"

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। মির্জা ফখরুল দাবি করেন, নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে প্রচার চালানো হয়েছিল যে জামায়াতে ইসলামী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে এবং তিনিও নাকি নির্বাচনে পরাজিত হবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেশের মানুষ বিএনপির পক্ষেই রায় দিয়েছে। কারণ জনগণ বিশ্বাস করে, গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থ বিএনপির হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ।

পিআইবি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এএনএম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ এবং ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনে তাঁর অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad