শিক্ষা হবে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর, ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

  • এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৪৯ বিকাল
  • ১৫৯৮৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে দেশকে পুনর্গঠন এবং ঘুরে দাঁড়ানোর এখনই উপযুক্ত সময়।

রোববার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত ‘কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে সম্মান জানাতে হলে একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ছাড়া ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

তিনি বলেন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা বিস্তারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দুই হাজারের বেশি কলেজে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে আরও কর্মমুখী ও যুগোপযোগী করার সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার কর্মসংস্থানের ধরনে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। অনেক প্রচলিত পেশা বিলুপ্ত হলেও নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এ বাস্তবতায় শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, দক্ষতা, প্রযুক্তি ও বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।

তিনি শিক্ষা কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আর্থিক সাক্ষরতা, নেতৃত্ব ও যোগাযোগ দক্ষতার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ইন্টারনেট অব থিংসের মতো উদীয়মান প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার ওপর জোর দেন।

সরকার ইতোমধ্যে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পাঠ্যক্রমকে বাস্তবভিত্তিক, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রমের নিয়মিত হালনাগাদ প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবছর উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করলেও অনেককে বেকার থাকতে হয়। এর অন্যতম কারণ হলো ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি। এ সমস্যা দূর করতে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সংযোগ জোরদারে কাজ করছে।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবনেই বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও সরকার নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়নে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ‘সিড ফান্ড’ ও ‘ইনোভেশন গ্রান্ট’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে তরুণরা চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একজন দক্ষ পেশাজীবীর পাশাপাশি একজন মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad