জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে আটক ও হেনস্থার ঘটনার পেছনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার তথ্যকে কেন্দ্র করে ভুল অভিযানের ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্বর্ণ চোরাচালানের সন্দেহে পাঠানো ওই বার্তার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালালেও পরে কোনো ধরনের অবৈধ মালামাল বা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ২৮ মিনিটে একটি বিশেষ সংস্থার খুলশী জোনে কর্মরত সার্জেন্ট পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা একটি বার্তা পাঠান। পরে সেটি খুলশী থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার কাছে ফরোয়ার্ড করা হয়। বার্তায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার নম্বর উল্লেখ করে দাবি করা হয়, সেটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণ চোরাচালানে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে বার্তায় স্বর্ণের অবস্থান, বহনকারীর পরিচয় কিংবা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বার্তাটি প্রথমে খুলশী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মনিরের কাছে পৌঁছে। তিনি বিষয়টি মোবাইল টিমে দায়িত্ব পালনকারী এসআই শফিকুল ইসলামকে অবহিত করেন। এরপর নগরের লালখানবাজার এলাকায় অবস্থান নেয় পুলিশ।
কিছু সময় পর বার্তায় উল্লেখিত নম্বরের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি সেখানে পৌঁছালে পুলিশ সেটি থামায়। সূত্র বলছে, নম্বর মিলিয়ে দেখার পর আর কোনো প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই গাড়িতে থাকা যাত্রীদের সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা বা ঘটনাস্থলেই তল্লাশি করার পরিবর্তে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যেই ছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।
পরবর্তীতে থানায় নেওয়ার পর খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান নাঈমকে শনাক্ত করেন। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এমনকি পরদিন সকালে নাঈম হাসানের ব্যাগও তল্লাশি করা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো স্বর্ণ, চোরাচালানের মালামাল বা অবৈধ বস্তু পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্ত করেন। তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় অভিযানে যুক্ত এসআই শফিকুল ইসলামকে ক্লোজড করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
খুলশী থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, “বিশেষ সংস্থার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে মোবাইল টিম অভিযান পরিচালনা করে। সিএনজির নম্বর মিলে যাওয়ার পর যথাযথ যাচাই ছাড়াই নাঈম হাসানকে থানায় আনা হয়েছিল। পরে বিষয়টি স্পষ্ট হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।”
ঘটনাটি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটি অসম্পূর্ণ ও যাচাইবিহীন তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারকে থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক