২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ এক লড়াইয়ে সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় মুখোমুখি হবে ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট। ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গ্রুপ পর্বের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্রুপের শক্তিশালী দল হিসেবে জার্মানিকে এগিয়ে রাখা হলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার দৌড়ে ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্টের জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি। ফলে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল দেখার প্রত্যাশা করছেন সমর্থকরা।
দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে আইভরি কোস্ট। ২০১৪ সালে গ্রিসের বিপক্ষে হতাশাজনক বিদায়ের পর টানা দুটি বিশ্বকাপ মিস করা আফ্রিকান দলটি এবার নতুন উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে নামছে। কোচ এমেরসে ফায়ের অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে ‘এলিফ্যান্টস’রা। টানা চার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে তারা।
তবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব পেরোনোর অভিজ্ঞতা নেই আইভরি কোস্টের। যদিও ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোরও পরের রাউন্ডে ওঠার সুযোগ থাকায় আশাবাদী আফ্রিকার তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা নিয়ে টুর্নামেন্টে এসেছে ইকুয়েডর। দুই বছর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারার পর আর কোনো ম্যাচে পরাজয়ের মুখ দেখেনি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে তারা।
ইকুয়েডরের শক্তির মূল ভিত্তি রক্ষণভাগ। এই অপরাজিত যাত্রায় ১৩ ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি তারা। তবে আক্রমণভাগে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। ম্যাচপ্রতি গড়ে মাত্র এক গোল করায় ড্রকে জয়ে পরিণত করতে ফরোয়ার্ডদের আরও কার্যকর হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
আইভরি কোস্টের আক্রমণের প্রধান ভরসা উইং প্লে। আমাদ দিয়ালো, ইয়ান দিয়োমান্দে, নিকোলাস পেপে ও সিমন আদিংরার মতো গতিময় ফুটবলারদের মাধ্যমে দুই প্রান্ত থেকে চাপ তৈরি করতে চাইবে আফ্রিকান দলটি। তবে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সেবাস্টিয়ান হালের অনুপস্থিতি তাদের জন্য বড় ধাক্কা। ফলে এলিয়ে ওয়াহি, ইভান গেসাঁ কিংবা আঞ্জ-ইওয়ান বনির ওপর বাড়তি দায়িত্ব বর্তাবে।
রক্ষণভাগেও দুশ্চিন্তা রয়েছে আইভরি কোস্ট শিবিরে। উরুর চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার ইভান এনডিকার খেলার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।
ইকুয়েডরের জন্যও রয়েছে ফিটনেস শঙ্কা। জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও অধিনায়ক এনের ভ্যালেন্সিয়ার খেলা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জাতীয় দলের জার্সিতে ৪৯ গোল করা এই ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতি ইকুয়েডরের আক্রমণভাগকে দুর্বল করে দিতে পারে।
তবে মোইসেস কাইসেদো, পিয়েরো হিনকাপিয়ে, উইলিয়ান পাচো এবং উদীয়মান তারকা কেন্দ্রি পায়েজকে নিয়ে শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামবে সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের শিষ্যরা।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা দুই দলের এই লড়াই ‘ই’ গ্রুপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে পরিণত হতে যাচ্ছে।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স