লস অ্যাঞ্জেলেস: যুদ্ধ, কূটনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসা জটিলতার কঠিন সময় পার করে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রেখেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই নানা রাজনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়েই নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী এই দল।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে ইরান দলের কোচ আমির গালেনোই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য ফুটবল—রাজনীতি নয়। তিনি বলেন, “আমরা এখানে এসেছি ভালো ফুটবল খেলতে। মাঠের বাইরের বিতর্কে আমরা মনোযোগ দিতে চাই না। ফুটবল ও রাজনীতি এক বিষয় নয়।”
তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধ পরিস্থিতি, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে ইরানকে। এমনকি ভিসা জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে তাদের অনুশীলন ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নিতে হয়। এখনো দলের কিছু সদস্য ভিসা সমস্যায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে স্বস্তির একটি খবরও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি সমঝোতা ঘোষণা করা হয়েছে, যা অন্তত সাময়িকভাবে যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমিয়েছে।
তবে মাঠের বাইরের উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ চলাকালে ইরানি সরকারবিরোধী প্রবাসীদের বিক্ষোভের ঘোষণা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারবিরোধী কোনো ধরনের প্রতীক বা ব্যানার প্রদর্শিত হলে ইরান দল ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।
সব বিতর্কের মধ্যেও নিজেদের অবস্থানে অনড় ইরান কোচ গালেনোই। তিনি বলেন, “প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সমস্যা থাকে। কিন্তু সেগুলোর সঙ্গে ফুটবলের সম্পর্ক নেই। আমরা দেশের ভেতরের ও বাইরের সব ইরানির প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি।”
গ্রুপ ‘জি’-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সোমবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইরান। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলের চেয়ে রাজনৈতিক আলোচনাই এখন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপ ইরানের জন্য শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়—বরং যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক প্রতীকী যাত্রাও।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স