শি জিনপিং–তারেক বৈঠক শুরু, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

  • এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ২৬ জুন ২০২৬, ১১:০২ দুপুর
  • ১১৪৭৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ বৈঠকটি শুরু হয়। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকের আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত ‘মনুমেন্ট টু দ্য পিপলস হিরোস’-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদ বীরদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু হয়। পরে তিনি চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস-২০২৬ সম্মেলনে অংশ নেন। দুই দিনের কর্মসূচি শেষে বুধবার বিকেলে তিনি বেইজিং পৌঁছান।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

একই দিনে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়িং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রোমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। পাশাপাশি তিনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংয়ের সঙ্গে দলীয় পর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেন।

এ ছাড়া চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনসহ বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

বেইজিং পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনাসহ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানানো হয়। মালয়েশিয়া ও চীন সফরে তিনি মাত্র ২৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সফর করছেন, যার মধ্যে রয়েছেন ১১ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা।

সফর শেষে শুক্রবার বিকেল ৫টায় (স্থানীয় সময়) প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad