বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা আবারও একসঙ্গে কারাগারে যাবেন কি না—সংসদে বাজেট আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের স্মৃতি সবার মনে রাখা উচিত এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কঠিন আন্দোলন করে আজ আমরা সংসদে এসেছি। ঐক্য খুব জরুরি। ঐক্য নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতা, কাশিমপুর জেলখানার কথা কি মনে আছে? আমরা তো একসঙ্গেই ছিলাম। একসঙ্গে নামাজ পড়েছি, খাওয়া-দাওয়া করেছি, আলোচনা করেছি এবং ফ্যাসিবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করার কৌশল নির্ধারণ করেছি।”
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা মাইক ছাড়াই কিছু মন্তব্য করলে শহীদউদ্দীন চৌধুরী হেসে বলেন, “আবার জেলে যাব?” পরে তিনি যোগ করেন, “না, আর জেলে যেতে হবে না। কারণ দেশের মানুষ তারেক রহমানের সঙ্গে আছে। যেমন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ছিল, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও ছিল। আবার সেই পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।”
মন্ত্রী দাবি করেন, বিএনপি সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না। তাঁর ভাষায়, “আমাদের প্রতিশোধ হবে উন্নয়ন। ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননই হবে সেই প্রতিশোধের অন্যতম উদাহরণ।”
দেশের নদীভাঙন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী প্রায় চার হাজার কিলোমিটার এলাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগে জীবনযাপন করছে। “তারা বাজেটের হিসাব বোঝে না; তারা শুধু বাঁচতে চায়। আমি যখন সংসদে কথা বলছি, তখনও কোথাও না কোথাও নদীভাঙনে নতুন এলাকা বিলীন হচ্ছে,” বলেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও জানান, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ প্রায় সাত কোটি মানুষের উপকারে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা—যে নামেই হোক—বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি সম্পদ উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও সংসদকে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রী।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক