হলি আর্টিসান ট্র্যাজেডির এক দশক: যে ক্ষত আজও বহন করছে বাংলাদেশ

  • এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৮ দুপুর
  • ১৬০৩৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

আজ ১ জুলাই। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা—হলি আর্টিসান ট্র্যাজেডির দশ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৬ সালের এই দিনে রাজধানীর গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত হলি আর্টিসান বেকারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে সংঘটিত নৃশংস হামলা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। ওই ঘটনার স্মৃতি আজও জাতির নিরাপত্তা, মানবিক বেদনা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অটল অবস্থানের প্রতীক হয়ে আছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত প্রায় ৯টার দিকে পাঁচজন সশস্ত্র হামলাকারী হলি আর্টিসানে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ এবং দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধশ্বাস জিম্মি সংকটের পর ২ জুলাই সকালে সেনাবাহিনীর ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর মাধ্যমে অভিযান সফলভাবে শেষ হয় এবং জিম্মি সংকটের অবসান ঘটে।

এই ভয়াবহ হামলায় ২০ জন জিম্মি নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় এবং ৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক। এছাড়া অভিযানের আগে দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আট আসামির মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং একজনকে খালাস প্রদান করেন।

হলি আর্টিসান হামলার পর দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। কূটনৈতিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান আরও শক্তিশালী করা হয়। পরবর্তী সময়ে জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়।

এক দশক পরও হলি আর্টিসান ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশ আজও সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার শিক্ষা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad