সলঙ্গায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল জনপদ, মানববন্ধনে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩২ দুপুর
  • ২৩২০৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

আহত দুজনের ন্যায়বিচার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান এলাকাবাসীর

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার শরীফ সলঙ্গা গ্রামে এক পরিবারের ওপর কথিত সশস্ত্র হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং আহতদের ন্যায়বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

শরীফ সলঙ্গা গ্রাম থেকে শুরু হওয়া মানববন্ধন ও পদযাত্রাটি সলঙ্গা-নিমগাছি সড়ক প্রদক্ষিণ করে সলঙ্গা থানা মাঠে গিয়ে শেষ হয়। আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মাওলানা আশরাফুল ইসলাম ও আলমাছকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা বলেন, একটি সভ্য সমাজে সন্ত্রাস, সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

ঘটনার পটভূমি তুলে ধরে শরীফ সলঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী মানিক দাবি করেন, নূরুল ইসলামের মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে শাকিল আহমেদ উত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি একাধিকবার তার বাবাকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ববিরোধের জেরে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় নূরুল ইসলামের ছোট ভাই আলমাছ গুরুতর আহত হন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে নূরুল ইসলামের ছেলে মাওলানা আশরাফুল ইসলামও ছুরিকাঘাতে আহত হন। পরিবারের দাবি, হামলার সময় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।

আহতদের প্রথমে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় আশরাফুল ইসলামের ফুসফুসে গুরুতর আঘাত ধরা পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সলঙ্গা থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার সময় ঘরের তালা ভেঙে চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত নগদ ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুট করা হয়। এছাড়া হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. নূরুল ইসলাম সলঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মো. শাকিল আহমেদ, তার বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার, মো. সৈকত, তাদের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এবং অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হত্যাচেষ্টা, সন্ত্রাস ও সহিংসতার মতো অপরাধ সমাজে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব ধরনের বিরোধ আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তারা।

উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad