ক্ষমতার রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার: আওয়ামী লীগকে ঘিরে আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর বিশ্লেষণ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৭ দুপুর
  • ৯৬৪৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ক্ষমতার রাজনীতিতে ভোটারদের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করার কৌশলকে রাজনৈতিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় অনুভূতি ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নকে সবচেয়ে দক্ষতার সঙ্গে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ধর্ম একটি শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক উপাদান। আওয়ামী লীগ একদিকে সংবিধানের চার মূলনীতির অন্যতম হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে ইসলামি মূল্যবোধ ও ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে সক্ষম হয়েছে।

লেখক উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে ‘মদিনা সনদ’-এর আলোকে দেশ পরিচালনার কথা বলেছেন। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলন, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, ওমরাহ পালন এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়গুলোও জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ভাবমূর্তি গঠনে ভূমিকা রেখেছে বলে লেখকের অভিমত।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি, সারাদেশে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ নির্মাণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উদ্যোগ সরকারকে ইসলামপন্থী ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। একই সময়ে কওমি আলেমদের একটি সংগঠন শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

বিশ্লেষণে সংবিধানের পঞ্চম ও অষ্টম সংশোধনীর প্রসঙ্গও এসেছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ কিংবা ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বিধান অপসারণ করেনি। তাঁর মতে, এটি দলটির রাজনৈতিক বাস্তববাদ এবং ভোটের হিসাব-নিকাশের প্রতিফলন।

লেখক ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে স্বাক্ষরিত নির্বাচনি সমঝোতা স্মারকের কথাও উল্লেখ করেন। সেখানে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন প্রণয়ন না করা, কওমি সনদের স্বীকৃতি এবং ধর্মীয় কয়েকটি বিষয়ে আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, এটি রাজনৈতিক প্রয়োজনে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

অন্যদিকে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রসঙ্গ টেনে লেখক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা বললেও সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনি বাস্তবতায় অনেক ইসলামি দল তাদের অবস্থানে পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের প্রশ্নে তাদের বক্তব্য আগের তুলনায় ভিন্ন হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতার উদাহরণ টেনে আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু বলেন, উপমহাদেশের তিন দেশেই ধর্ম এখন ক্ষমতার রাজনীতির অন্যতম কার্যকর উপাদানে পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার রাজনৈতিক শক্তিগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।

লেখার উপসংহারে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং নির্বাচনি কৌশল—এই তিনটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো আদর্শের চেয়ে বাস্তব রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

(এটি লেখক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর প্রকাশিত মতামতভিত্তিক বিশ্লেষণের সংক্ষিপ্ত ও সম্পাদিত রূপ। এতে উল্লিখিত মতামত সম্পূর্ণভাবে লেখকের নিজস্ব।)




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad