আম্ফান-পরবর্তী ত্রাণবহরে হামলা মামলা: দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১০ আ. লীগ নেতাকর্মী কারাগারে

  • মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ রাত
  • ১৫৪০৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর বিএনপির ত্রাণবাহী গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৭ জুলাই) সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো. সাঈদুর রহমান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— নূরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহম্মেদ, তার ভাই হাবিবুর রহমান (হবি), জাহিদ হোসেন, রায়হান কবীর, সোলায়মান গাজী, শহীদুল গাজী, শফিউল্লাহ, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শোকর আলী, তার ভাই আব্দুল কাদের এবং মোজাম গাজী।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২১ জুন ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে বিএনপির একটি গাড়িবহর শ্যামনগর থেকে কাশিমাড়ির দিকে রওনা হয়। অভিযোগ করা হয়, কাশিমাড়ি ইউনিয়নের কাতখালী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লোহার রড, দা, লাঠি ও ককটেল নিয়ে ওই বহরে হামলা চালায়।

এ ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ত্রাণসামগ্রী ও ওষুধ নষ্ট করা হয় এবং একটি প্রাইভেট কার, একটি মাইক্রোবাস ও ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।

ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর, চলতি বছরের ১৯ মার্চ আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় আওয়ামী লীগের নেতা জিএম জগলুল হায়দারসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে মামলার ১০ আসামি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করলে গত ১১ মে হাইকোর্ট তাদের আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিন আবেদন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মঈনুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad