‘ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন’—বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ভেঙে পড়লেন এমবাপ্পে

  • প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ দুপুর
  • ১০৬২৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

স্পেনের কাছে ২-০ গোলের পরাজয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তবে এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল এম৬-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, “সবার মতো আমিও ভীষণ হতাশ। আমাদের লক্ষ্য ছিল ফাইনালে ওঠা, পুরো দেশকে নতুন করে স্বপ্ন দেখানো এবং ইতিহাস গড়া। কিন্তু এখন মাথা উঁচু রেখেই এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।”

২০১৮ সালে বিশ্বকাপজয়ী এবং ২০২২ সালে রানার্সআপ হওয়া এমবাপ্পে এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলেন। টানা দুই আসরে ফাইনাল খেলার পর এবারের সেমিফাইনালেই থেমে গেল ফ্রান্সের যাত্রা।

নিজের হতাশার কথা জানিয়ে ফরাসি এই ফরোয়ার্ড বলেন, “আমার ভেতরে কতটা হতাশা কাজ করছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে, কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে, তারপর আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। সামনে ক্লাব ও জাতীয় দলে নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।”

পুরো বিশ্বকাপজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এমবাপ্পে ছিলেন গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার। সেমিফাইনালের আগে তার গোলসংখ্যা ছিল ৮, আর বিশ্বকাপে মোট গোলের সংখ্যা পৌঁছেছিল ২০-এ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই তাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেয় স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল এমবাপ্পেকে থামাতে কোনো ব্যক্তিগত মার্কিংয়ের কৌশল নেয়নি। বরং মাঝমাঠে জায়গা সংকুচিত করা, দ্রুত প্রেসিং এবং ট্রানজিশনের পথ বন্ধ করে দিয়ে তাকে গোল থেকে দূরে রাখতে সক্ষম হয়। ফলে নিজের স্বাভাবিক গতিতে খেলার সুযোগই পাননি ফরাসি অধিনায়ক।

পরিসংখ্যানও তার নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের সাক্ষ্য দেয়। পুরো ম্যাচে এমবাপ্পে মাত্র ৩৪ বার বল স্পর্শ করেন। প্রতিপক্ষের বক্সে বল পান মাত্র সাতবার। ছয়টি ড্রিবলের মধ্যে সফল হন মাত্র একটিতে। ১১টি দ্বৈরথের মধ্যে জেতেন মাত্র দুটি। তিনবার অফসাইডে ধরা পড়েন এবং নেওয়া তিনটি শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। পুরো ম্যাচে তিনি কোনো গোলের সুযোগও তৈরি করতে ব্যর্থ হন।

বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পর সেমিফাইনালে এটি ছিল এমবাপ্পের অন্যতম নিষ্প্রভ ম্যাচ। আর তার সঙ্গে শেষ হয়ে যায় শিরোপা ধরে রাখার ফ্রান্সের স্বপ্নও।

এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে ফ্রান্স। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে স্পেন অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড কিংবা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ের জন্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad