সাগরে লঘুচাপের প্রভাব, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত; বৃষ্টি কমায় উন্নতির পথে বন্যা পরিস্থিতি

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ রাত
  • ৫৪৬৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে রোববার রাত থেকে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা—এই চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষরেখা রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার হয়ে লঘুচাপের কেন্দ্র ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল অতিক্রম করে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। লঘুচাপটি ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে সরে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ দেশের মধ্যাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে আপাতত শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করলেও লঘুচাপ উপকূল অতিক্রমের পর সেখানে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এর প্রভাব মূলত উপকূলীয় এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শনিবার দেশের অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক ছিল। রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও সর্বোচ্চ ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় তাপমাত্রাও কিছুটা বেড়েছে। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকায় ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

অন্যদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত দুই দিনে বৃষ্টিপাত কমে আসায় দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে। এই ধারা আগামী তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানিও স্থিতিশীল থেকে ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী দুই দিনে কিছুটা বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী, মুহুরী, গোমতী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানিও ক্রমান্বয়ে কমছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

বাপাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম শোভন বলেন, বৃষ্টিপাত কমে আসায় দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad