রাতে সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্ক, ভাঙা টিনের ঘরে ৪৫ এতিম শিশুর জীবনযুদ্ধ

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:১৬ দুপুর
  • ৪২৭২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম রুপসীপাড়া ইউনিয়নের রুপসীপাড়া ইসলামিয়া এতিমখানা দীর্ঘদিন ধরে চরম অবকাঠামোগত সংকটের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। জরাজীর্ণ টিনশেড ভবন, ভাঙাচোরা বেড়া, সীমানা প্রাচীরের অভাব এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতায় ৪৫ জন এতিম শিশু প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছে।

স্থানীয়ভাবে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে ১৯৯১ সালে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, স্থানীয় মুরুব্বী আবু বক্কর ছিদ্দিক ও আব্দুস ছত্তার ফরাজীর উদ্যোগে দুই কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ভবনে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯৩ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন লাভের মাধ্যমে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট সুবিধা পেতে শুরু করে।

বর্তমানে এতিমখানাটিতে ৪৫ জন অসহায় ও দুস্থ শিশু অধ্যয়ন করলেও সরকারি ক্যাপিটেশন গ্রান্ট পাচ্ছে মাত্র ১৮ জন। বাকি ২৭ জন শিক্ষার্থীর ভরণ-পোষণ ও শিক্ষা ব্যয় বহনে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিচালনা কমিটিকে। মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে হেফজ ও নূরানী শিক্ষা কার্যক্রম।

রাতে সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্ক, বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের টিনের ছাউনি ও বেড়ার বিভিন্ন অংশ ছিদ্র হয়ে গেছে। অনেক জায়গার খুঁটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এবং দরজা-জানালাও ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। ফলে যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, রাত হলে ভাঙা বেড়ার ফাঁক দিয়ে বিষাক্ত সাপ, ব্যাঙ ও বিচ্ছু ঘরে ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির সময় ছাউনির ফাঁক দিয়ে পানি পড়ায় ঠিকমতো ঘুমানোও সম্ভব হয় না। তারা দ্রুত একটি নিরাপদ পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।

সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাহীনতা

এতিমখানার চারপাশে সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় সমাজসেবক গুলজার হোসেন, পিন্টু মিয়া ও আবুল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাঠ গ্রহণ করছে। জরাজীর্ণ ভবনে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত একটি একাডেমিক ভবন, সীমানা প্রাচীর এবং বঞ্চিত ২৭ শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাপিটেশন গ্রান্ট নিশ্চিত করা জরুরি।

১৮ বছর ধরে ধরনা, তবুও মেলেনি বরাদ্দ

এতিমখানার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাখাওয়াতুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। গত ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন করেও একটি পাকা ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তিনি পাকা ভবন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং বাকি ২৭ শিক্ষার্থীর জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জনপ্রতিনিধিরও একই দাবি

রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহা আলম বলেন, দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে গাদাগাদি করে পাঠদান চলছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি পাকা ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ অত্যন্ত প্রয়োজন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad