বৃহস্পতির ইউরোপায় লুকিয়ে পৃথিবীর সব মহাসাগরের দ্বিগুণ পানি! প্রাণের সন্ধানে নতুন আশার আলো

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৫১ দুপুর
  • ৪১৪৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বৃহস্পতির রহস্যময় উপগ্রহ ইউরোপাকে ঘিরে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার জুনো মহাকাশযানের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপার পুরু বরফস্তরের নিচে থাকা বিশাল লবণাক্ত মহাসাগরে পৃথিবীর সব মহাসাগরের মোট পানির চেয়েও দুই গুণের বেশি পানি থাকতে পারে। এই আবিষ্কার সৌরজগতে প্রাণের সম্ভাব্য অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মাত্র ৩ হাজার ১২০ কিলোমিটার ব্যাসের ইউরোপা পৃথিবীর চাঁদের চেয়েও ছোট। তবে এর পৃষ্ঠের নিচে প্রায় ৬০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গভীর একটি বিশাল মহাসাগর থাকার সম্ভাবনার কথা দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা। এ কারণেই সৌরজগতের সম্ভাব্য প্রাণের আবাসস্থলগুলোর মধ্যে ইউরোপাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

প্রায় ২৯ কিলোমিটার পুরু বরফস্তর

২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নাসার জুনো মহাকাশযান ইউরোপার মাত্র ৩৬০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়ে যায়। এ সময় মহাকাশযানের মাইক্রোওয়েভ রেডিওমিটার (MWR) যন্ত্র বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ বিশ্লেষণ করে বরফস্তরের তাপীয় বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করে।

গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পর্যবেক্ষণ করা এলাকায় বরফস্তরের গড় পুরুত্ব প্রায় ২৯ কিলোমিটার। তবে বিভিন্ন অঞ্চলে এ পুরুত্ব কম-বেশি হতে পারে।

প্রাণের সম্ভাবনা কতটা?

বিজ্ঞানীদের মতে, শুধু পানি থাকলেই প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয় না। জীবনের জন্য প্রয়োজন রাসায়নিক শক্তি, প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান এবং সমুদ্রের তলদেশ ও বরফাচ্ছাদিত পৃষ্ঠের মধ্যে উপাদান আদান-প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা।

নতুন গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যদি বরফস্তর সত্যিই এত পুরু হয়ে থাকে, তাহলে সমুদ্র ও পৃষ্ঠের মধ্যে রাসায়নিক উপাদানের আদান-প্রদান আগের ধারণার তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হতে পারে। ফলে ইউরোপায় প্রাণের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না হলেও বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ইউরোপা ক্লিপারের দিকে তাকিয়ে বিজ্ঞানীরা

ইউরোপার রহস্য উদ্ঘাটনে নাসা ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর ইউরোপা ক্লিপার মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে। এটি ২০৩০ সালের এপ্রিলে বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মহাকাশযানটি ইউরোপার চারপাশে প্রায় ৫০টি ফ্লাইবাই পরিচালনা করবে। রাডার, উচ্চক্ষমতার ক্যামেরা, স্পেকট্রোমিটার এবং চৌম্বকীয় পরিমাপকসহ আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে বরফস্তরের গঠন, ভূতত্ত্ব, ভূগর্ভস্থ মহাসাগরের বৈশিষ্ট্য এবং প্রাণের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে কি না—সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

বিজ্ঞানীদের মতে, ইউরোপা নিয়ে নতুন এই তথ্য সৌরজগতে প্রাণের সন্ধানকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি যেমন বরফের নিচে বিশাল মহাসাগরের অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে, তেমনি সেই মহাসাগরে পৌঁছে এর পরিবেশ বিশ্লেষণ করা যে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন—সেটিও স্পষ্ট করেছে।

গবেষকদের ভাষায়, ইউরোপার সবচেয়ে বড় রহস্য শুধু তার বিশাল মহাসাগর নয়; বরং সেই মহাসাগরকে আড়াল করে রাখা কয়েক দশ কিলোমিটার পুরু বরফস্তর। সেই বরফের নিচেই হয়তো লুকিয়ে রয়েছে সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলোর একটি।

তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর মহাসাগরের গড় গভীরতা যেখানে প্রায় ৪ কিলোমিটার, সেখানে ইউরোপার সম্ভাব্য মহাসাগরের গভীরতা শত কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে—যা মহাবিশ্বে জলভিত্তিক পরিবেশ সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

সূত্র: স্পেস ডেইলি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad