ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ, গ্রেপ্তার বন্ধের দাবি

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১১ রাত
  • ৪৬১৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ)। সংগঠনটির দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে বিভিন্ন রাজ্যে গ্রেপ্তার, আটক ও পুলিশি হয়রানি চলছে।

মঙ্গলবার দিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এআইএসএ নেতারা এসব অভিযোগ করেন। তারা জানান, বিশেষ করে বিহার ও দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে এবং কাউকে কাউকে ইচ্ছামতো আটক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এআইএসএ নেতাদের ভাষ্য, দিল্লি, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জাতীয় সভাপতি নেহা, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সম্পাদক অঞ্জলি, আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবক এম জুনায়েদ এবং অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে গঠিত আইনি দলের আইনজীবী মানিক গুপ্ত।

এআইএসএ সভাপতি নেহা বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার, নির্বিচারে আটক ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। তিনি সরকারের প্রতি আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের বিধায়ক সন্দীপ সৌরভসহ এআইএসএ-এর কয়েকজন কর্মী এখনো কারাগারে রয়েছেন। বিশেষ করে বিহারে ছাত্র ও যুব আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এআইএসএ একটি তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের আটক ও আহত হওয়ার ঘটনা এবং বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে গ্রেপ্তার ও পুলিশি অভিযানের তথ্য তুলে ধরা হয়।

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) অভিযোগ করেছে, সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পরও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া না হলে তারা পুনরায় আন্দোলনে ফিরবে। তাদের ভাষ্য, এ পর্যন্ত অন্তত ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত দিল্লির আন্দোলনে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করেছে।

এদিকে মহারাষ্ট্র, বিহার ও আসাম সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির ঘোষণা দিলেও বিভিন্ন রাজ্যে এখনো পুলিশি নোটিশ ও সমন পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশ জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ৫০০-এর বেশি প্রোফাইল শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে বিদেশভিত্তিক কয়েকটি চক্রের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সূত্র: এনডিটিভি




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad