যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর কয়েক দিন ধরে ইরানের আকাশে আর কোনো বিস্ফোরণ বা বিমান হামলার শব্দ শোনা না গেলেও পরিস্থিতিকে যুদ্ধবিরতি বলতে নারাজ তেহরান। ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় ফিরতে তাদের কোনো তাড়াহুড়ো নেই।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান নিজেদের কৌশলগতভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছে। দেশটির সামরিক নেতৃত্ব যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সাফল্যের কথা তুলে ধরছে। একই সঙ্গে কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রের সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে ইরান আলোচনায় ফিরতে মরিয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণাঙ্গ শান্তি কিংবা যুদ্ধ—কোনোটিই না থাকা বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিকে নিজেদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করছে তেহরান। তাদের প্রধান লক্ষ্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি আদায় করা। তবে এ বিষয়ে এখনো সম্মতি দিতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই কৌশল ইরানের জন্যও ঝুঁকিমুক্ত নয়। যে কোনো সময় আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধের প্রভাব, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের সামরিক বাহিনীর সাবেক মুখপাত্র রমজান শরিফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রতিটি পর্যায়ে কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধবিরতি হিসেবে আখ্যায়িত করার সুযোগ নেই।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আলোচনার জন্য বিরতি চেয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিশ্বাস সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। দেশটির ধারণা, দীর্ঘমেয়াদি চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তাদের বেশি। ফলে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনই তাদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অবস্থান ইরানের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ থাকলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধই এখন সবচেয়ে বড় অন্তরায়।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক