চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে চারটি ফার্মেসিকে মোট ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে পৌর সদরের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযানে কয়েকটি ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ সংরক্ষণ এবং বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ওষুধ আইন, ২০২৩-এর ৪০(খ) ও ৪০(গ) ধারায় চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জোসনা ফার্মেসিকে ৩০ হাজার টাকা, নুহাশ ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা, আয়াত মেডিকেল হলকে ১৫ হাজার টাকা এবং ফারুক মেডিকেল হলকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফার্মেসি মালিকদের ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম বলেন, “মানুষের জীবন ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপদ ও মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ রোগীর জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই বাজার তদারকি জোরদার, ফার্মেসিগুলোর নিয়মিত পরিদর্শন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা। তাদের মতে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক