রূপগঞ্জে উচ্ছেদ আতঙ্কে দুই শতাধিক পরিবার, কোস্ট গার্ডের আবাসন প্রকল্পে উদ্বেগ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ সকাল
  • ২৫১৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া, কুলিয়াদি, রঘুরামপুর, শিমুলিয়া ও ব্রাহ্মণখালী এলাকার দুই শতাধিক পরিবার নতুন করে উচ্ছেদের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যদের জন্য আবাসিক এলাকা নির্মাণে ৩৮ দশমিক ৭৬ একর জমি ভূমি হুকুম দখলের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বাচল উপশহর নির্মাণের সময় একবার উচ্ছেদের শিকার হওয়া বহু পরিবার নতুন করে বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের দাবি, কোনো ধরনের গণশুনানি বা জনমত যাচাই ছাড়াই গোপনে জমি জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। তারা বসতবাড়ি উচ্ছেদ না করে অনাবাসিক, পতিত বা খাস জমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে রাজউকের পূর্বাচল উপশহর নির্মাণের জন্য নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ৪২টি গ্রামের ১৭টি মৌজার মোট ৬ হাজার ১৫১ একর জমি ভূমি হুকুম দখল করা হয়। সে সময় উচ্ছেদ হওয়া অনেক পরিবার পরবর্তীতে ফুলবাড়িয়া, কুলিয়াদি, শিমুলিয়া, ব্রাহ্মণখালীসহ আশপাশের এলাকায় জমি কিনে নতুন করে বসতি গড়ে তোলে।

বর্তমানে পূর্বাচলের উত্তর-পূর্ব সীমান্তবর্তী ফুলবাড়িয়া, কুলিয়াদি, শিমুলিয়া, রঘুরামপুর ও ব্রাহ্মণখালী এলাকায় আবারও ভূমি হুকুম দখলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় রঘুরামপুর মৌজার ১৯ দশমিক ২১ একর, ব্রাহ্মণখালী মৌজার ১৫ দশমিক ৮৫ একর এবং কুলিয়াদি মৌজার ৩ দশমিক ৭০ একর জমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, নির্বাচন কমিশনের তালিকা অনুযায়ী এসব এলাকায় ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৬০০-এর বেশি।

কুলিয়াদি গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “ফসলি জমি শুধু আমাদের জীবিকার উৎস নয়, এটি প্রজন্মের পর প্রজন্মের টিকে থাকার অবলম্বন। নামমাত্র দামে জমি অধিগ্রহণ করা হলে প্রান্তিক মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বে। প্রয়োজনে রক্ত দেব, তবুও বাপ-দাদার বসতভিটা ছাড়ব না।”

পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ আল-সোহান বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যদের আবাসিক এলাকা নির্মাণের লক্ষ্যে ৩৮ দশমিক ৭৬ একর জমি ভূমি হুকুম দখলের কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে এক মাস আগে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী তাদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ভূমি হুকুম দখলের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে এবং তাদের আবেদন-নিবেদন ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

এদিকে রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী ভূমি হুকুম দখল করা হলে জমির মালিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কেউ বঞ্চিত হবেন না এবং প্রত্যেকেই তাদের ন্যায্য অধিকার পাবেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad