নিচে তথ্য অপরিবর্তিত রেখে জাতীয় দৈনিকের উপযোগী ভাষায় সংবাদটি পুনর্লিখন করা হলো।

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ সকাল
  • ২৩৬৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণকে টেকসই ও কার্যকর করতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

বুধবার রাতে রাজধানীর নীলক্ষেতে আইসিএমএবি ভবনের রুহুল কুদ্দুস অডিটোরিয়ামে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আসন্ন এলডিসি উত্তরণ: টেকসই রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা’ শীর্ষক কৌশলগত সংলাপে বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সভাপতিত্ব করেন আইসিএমএবির সভাপতি মো. কাওসার আলম, এফসিএমএ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, রেডিয়েন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও আইসিএমএবির সাবেক সভাপতি মো. আবদুর রহমান খান, এফসিএমএ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করলেও প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হবে এই উত্তরণকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা। তিনি বলেন, এলডিসির বিশেষ সুবিধা থেকে বেরিয়ে গেলে রপ্তানি, ওষুধ শিল্প এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করেই উত্তরণের পথে এগোনো উচিত।

তিনি জানান, সরকার জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং খাতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে কাজ করছে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স এবং আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা দ্রুত ও সম্পূর্ণ অনলাইনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাতের একটি বড় অংশ পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শিল্প উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আইসিএমএবির সাবেক সভাপতি ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে সফল হতে হলে সুশাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা অসাধারণ; প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, ভ্যালু অ্যাডিশন ও দেশে রপ্তানি আয়ের ধরে রাখার সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং স্বল্পসুদে অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি করা গেলে পোশাক শিল্পে অন্তত ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা, শুল্ক সুবিধা হ্রাস এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রয়োজনীয় নীতি-সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা। আলোচনা পরিচালনা করেন আইসিএমএবির সাবেক সভাপতি আরিফ খান, এফসিএমএ। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইসিএমএবির সেক্রেটারি মনজুর মো. সাইফুল আজম, এফসিএমএ।

সংলাপে বক্তারা অভিন্নভাবে মত দেন, এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কাঠামোগত সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad