দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ‘স্কুল মিল’ কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রোববার সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও আবাসিক প্রতিনিধি কোকো উশিয়ামার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান।
বৈঠকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল মিল কর্মসূচির সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলকভাবে রান্না করা গরম খাবার চালুর সম্ভাবনা, কর্মসূচির কার্যকর তদারকি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর পুষ্টি নিশ্চিত করা। তিনি জানান, স্কুল মিল কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনায় ভারতের স্কুল মিল কর্মসূচির অভিজ্ঞতাও উঠে আসে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা, শহর ও গ্রামাঞ্চলের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনভিত্তিক পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, স্কুল মিল কর্মসূচি শুধু শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করে না, বরং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুল গার্ডেন, পুষ্টি শিক্ষা এবং স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে স্কুল মিল কর্মসূচির সমন্বয়ের মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
বৈঠকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিদ্যমান সমন্বিত প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ডব্লিউএফপির কারিগরি সহযোগিতার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মসূচির কার্যকারিতা আরও বাড়াতে উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়।
এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ডব্লিউএফপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ