ডেপুটি স্পিকারের নামে জাল ডিও লেটার: এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০২ দুপুর
  • ৬০৭০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে জাল ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) লেটার তৈরি ও ব্যবহার করে সরকারি বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় শাওন মজুমদার সুমনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবের মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন যে, আসামি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে একটি জাল ডিও পত্র তৈরি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পত্রে ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর ও সরকারি লেটারহেড জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়।

এজাহার অনুযায়ী, জাল ডিও পত্রের মাধ্যমে বরগুনা সদর উপজেলা থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন বা উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।

পরবর্তীতে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে জাতীয় সংসদ সচিবালয় নিশ্চিত হয় যে, কথিত ডিও পত্রটি তাদের পক্ষ থেকে ইস্যু করা হয়নি। এছাড়া পত্রে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষা, বিন্যাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে এটি জাল নথি বলে প্রতীয়মান হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকারের সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সরকারি নথি ও পরিচয় অবৈধভাবে ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তা পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রতারণামূলকভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা নষ্টের অপচেষ্টাও হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বাদীপক্ষের দাবি, ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র জড়িত থাকতে পারে। এ কারণে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ই-মেইল, প্রিন্টিং উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক ও যোগাযোগের তথ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫ (জালিয়াতি), ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ এবং ১২০-বি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারের সঙ্গে কথিত জাল ডিও পত্র, প্রকৃত ডিও প্যাডের নমুনা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও সংযুক্ত করা হয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad