সালমান শাহর মৃত্যু: রিজভীর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শাবনূর, বললেন ‘বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’

  • প্রথম দর্পণ,বিনোদন ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৬ রাত
  • ৫৭৭৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় তিন দশক আগের এই ঘটনায় একসময়ের রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। রিজভীর বক্তব্যকে ‘অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বানোয়াট’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

শাবনূরের দাবি, ১৯৯৭ সালে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রিজভী আহমেদ ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন।

ফেসবুক পোস্টে শাবনূর লিখেছেন, সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে রাজসাক্ষী হওয়া রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ অন্য একটি মামলায় সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরী (বিল্টু)কে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দিতে তিনি সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে দাবি করেন শাবনূর।

শাবনূরের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই জবানবন্দিতে রিজভী দাবি করেছিলেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। সে সময় তিনি প্রায় নয় মাস কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে কিছুদিনের মধ্যে যুক্তরাজ্যে চলে যান বলেও তার নিজের বক্তব্যে উল্লেখ ছিল বলে জানান শাবনূর।

শাবনূর আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় রিজভী আবারও সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ—পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সালমান আত্মহত্যা করেছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ের দুটি সাক্ষাৎকারেও রিজভী একই দাবি করেছেন বলে উল্লেখ করেন শাবনূর। তার অভিযোগ, এসব সাক্ষাৎকারে রিজভী সালমান শাহর মৃত্যুর জন্য তার মা নীলা চৌধুরীকে দায়ী করার পাশাপাশি শাবনূরের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলেছেন।

রিজভীর বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাবনূর বলেন, একই ব্যক্তি যদি একই ঘটনা সম্পর্কে সময়ে সময়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন, তাহলে তার সর্বশেষ বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।

নিজেকে নিয়ে রিজভীর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানান শাবনূর। তার দাবি, এক সাক্ষাৎকারে রিজভী বলেছেন, তিনি শাবনূরকে ভালোবাসতেন এবং বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। আবার অন্য একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, শাবনূর তার সাবেক প্রেমিকা ছিলেন এবং ২০১৬ সালে তাদের বিয়ে হয়েছিল, ২০১৮ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

এ দাবির প্রেক্ষিতে শাবনূর প্রশ্ন তোলেন, রিজভী ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং তার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে আসেননি। অন্যদিকে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি নিজেও যুক্তরাজ্যে যাননি। তাহলে তাদের বিয়ে কোথায় এবং কীভাবে হয়েছে—এমন প্রশ্ন রাখেন শাবনূর।

শাবনূর বলেন, রিজভীর কথিত বিয়ের সময়ের অনেক আগেই তিনি বিবাহিত ছিলেন। রিজভীর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং তাকে তিনি কখনো দেখেছেন বলেও মনে পড়ে না। এমনকি ওই ব্যক্তিকে তিনি চিনতেন না বলেও দাবি করেন।

সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল করা কিংবা তার পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন শাবনূর। তিনি বলেন, সালমান শাহ ছিলেন তার অত্যন্ত প্রিয় সহশিল্পী এবং বড় ভাইয়ের মতো। তার মৃত্যুর সঙ্গে নিজের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

রিজভী হঠাৎ করে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন শাবনূর। তার ধারণা, মামলাটি নতুন মোড় নেওয়ার পর অভিযুক্তদের প্ররোচনা কিংবা আর্থিক প্রলোভনে পড়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।

তবে সব ধরনের বিতর্কের অবসান ঘটাতে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শাবনূর। তার বক্তব্য, ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad