মক্কা চুক্তিতে বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ রাত
  • ৬৫৫১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ন্যাটোর আর্টিকেল-৫-এর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এই প্রতিশ্রুতি চুক্তিটিকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। তবে যৌথ বিবৃতিতে সামরিক সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট পরিধি কিংবা কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি শুধু পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয় নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টারও প্রতিফলন।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ

বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ পাকিস্তানের জন্য চুক্তিটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে তুলনামূলক সতর্ক অবস্থান ও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়া ইসলামাবাদ এবার সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোয় যুক্ত হলো।

বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সংযোগস্থলে সম্ভাব্য নিরাপত্তা-গ্যারান্টারের ভূমিকায় উঠে আসতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুদ্ধ, নতুন জোট এবং পরিবর্তিত কূটনৈতিক সম্পর্কের চাপে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নতুন পথ খুঁজছে। পাকিস্তানের বড় প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা এই কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

এক পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, তিন দেশেরই অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থ রয়েছে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ক্ষেত্রে। অভিন্ন স্বার্থই তাদের এই চুক্তির দিকে নিয়ে গেছে।

ইরানকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত নতুন এই নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে সৌদি ভূখণ্ডেও হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সৌদি আরবের জ্বালানি ও সার সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমদানিনির্ভর পাকিস্তান ও তুরস্কও এই পরিস্থিতিতে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

সৌদি আরব ও তুরস্ক উভয় দেশই আঞ্চলিক সংঘাতসংশ্লিষ্ট হামলার মুখোমুখি হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় সীমান্ত অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তুরস্কের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল। ইরানি কুর্দি মিলিশিয়াদের হাতে বাইরের শক্তির অস্ত্র পৌঁছালে দেশটির কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে-কে ঘিরে চলমান শান্তি প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়তে পারে। এদিকে ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের মাধ্যমে ইরানের প্রভাব বিস্তার এবং সৌদি ভূখণ্ডে হামলার আশঙ্কা রিয়াদের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা-নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন

সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। দীর্ঘদিন ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব জোরদারের দিকে এগোচ্ছে।

পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আসিফ দুররানি চুক্তিটিকে ‘উদীয়মান আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর প্রথম বাস্তব ভিত্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, উদ্যোগটি অব্যাহত থাকলে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধ, এমনকি ফিলিস্তিন ইস্যুতেও আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিন দেশের মধ্যে যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ছিল, নতুন চুক্তিটি তারই স্বাভাবিক পরিণতি।

আগেই তৈরি হয়েছিল ভিত্তি

নতুন চুক্তির আগে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্ত হয়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে দুই দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। এর আওতায় প্রায় ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা, যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি আরবে মোতায়েনের তথ্যও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান—উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী। ফলে নতুন চুক্তিকে তিন দেশের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হিসেবেও দেখছেন অনেকে।

কুগেলম্যানের মতে, আঞ্চলিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং ইরানকে কেন্দ্র করে সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি ওয়াশিংটনে ইতিবাচকভাবে দেখা হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান মিত্রদের কাছ থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার প্রত্যাশা করে।

পাকিস্তানের জন্য ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’

পাকিস্তানের জন্য চুক্তিটির গুরুত্ব শুধু ভূরাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দেশটির দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটেরও সম্পর্ক রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সেতুবন্ধনের ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল ইসলামাবাদ। জুনে আঞ্চলিক সংঘাত সাময়িকভাবে থামাতে সমঝোতা স্মারক তৈরিতে পাকিস্তান ভূমিকা রাখলেও পরবর্তী উত্তেজনা দেশটির নিরপেক্ষ অবস্থানকে সংকুচিত করেছে।

মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও আর্থিক চাপের মধ্যে থাকা পাকিস্তানের জন্য প্রতিরক্ষা কূটনীতি এখন অর্থনৈতিক প্রয়োজনের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবেই সামরিক সক্ষমতাকে অর্থনৈতিক সহায়তা আদায়ের একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো সেই মডেলকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে।

এর ফলে যৌথ প্রশিক্ষণ, সেনা মোতায়েন ও অস্ত্র রপ্তানির মতো সামরিক সক্ষমতার বিনিময়ে পাকিস্তান সৌদি বিনিয়োগ, জ্বালানি সুবিধা, আর্থিক সহায়তা ও কূটনৈতিক সমর্থন পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এক পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভাষায়, পাকিস্তানের সামরিক শক্তি এখন শুধু কৌশলগত সম্পদ নয়, অর্থনৈতিক সম্পদেও পরিণত হচ্ছে।

সৌদি অর্থ, তুরস্কের প্রযুক্তি, পাকিস্তানের সামরিক শক্তি

তিন দেশের অংশীদারিত্বে প্রত্যেকের সক্ষমতা অন্যের পরিপূরক। পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা শহরিয়ার খানের মতে, সৌদি আরব দিতে পারে আর্থিক শক্তি, তুরস্ক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং পাকিস্তান মূল সামরিক সক্ষমতা।

সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক সামর্থ্য, জ্বালানি বাজারে প্রভাব এবং মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও কূটনৈতিক অবস্থান।

তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী এবং দ্রুত বিকাশমান নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প। ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও নির্ভুল নিশানাভিত্তিক অস্ত্র প্রযুক্তিতে দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে পাকিস্তান দিতে পারে বড় ও যুদ্ধ-অভিজ্ঞ সেনাবাহিনী এবং মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা।

ফলে তিন দেশের এই সমন্বয় শুধু সেনা মোতায়েনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রযুক্তি, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও প্রতিরোধক্ষমতার বিস্তৃত কাঠামোয় রূপ নিতে পারে।

পাকিস্তানের জন্য বড় ঝুঁকি ‘এনট্র্যাপমেন্ট’

তবে চুক্তির সবচেয়ে বড় ঝুঁকিও পাকিস্তানের জন্য। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়লে ইসলামাবাদ এমন কোনো সংঘাতে আটকে যেতে পারে, যা তার নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইরান ইতোমধ্যে চুক্তিটির তীব্র সমালোচনা করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তিটিকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে অক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন।

ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্কের কারণে বিষয়টি ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন যুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব পাকিস্তানের পার্লামেন্ট প্রত্যাখ্যান করেছিল। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বাস্তবতা সেই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

পাকিস্তানে বড় শিয়া জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের একটি অংশ ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি সহানুভূতিশীল। ফলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ককে দেশের ভেতরে ইরানবিরোধী জোট হিসেবে দেখা হলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‘মুসলিম নিরাপত্তা জোট’ কি আরও বড় হবে?

নতুন চুক্তির পর প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত মুসলিম নিরাপত্তা জোটে রূপ নিতে পারে?

পাকিস্তানের সাবেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বের আরও কিছু দেশ ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় যুক্ত হতে পারে। তবে তার সতর্কতা, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে এমন জোটের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত করা যাবে না। শিক্ষা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সাম্প্রদায়িক সহনশীলতার ওপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

চুক্তিটি ইসরায়েলের কৌশলগত মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এর আগে পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে ঘিরে তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন অক্ষ’ গড়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা নতুন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অন্য যেকোনো আঞ্চলিক সামরিক জোটের তুলনায় আলাদা মাত্রা দিচ্ছে।

ভারতের জন্যও নতুন হিসাব

চুক্তিটির প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়াতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নয়াদিল্লিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামো পাকিস্তানকে সৌদি আরব ও তুরস্কের আরও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদারে পরিণত করতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

নয়াদিল্লিভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক কবির তানেজার মতে, বিষয়টিকে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে চলবে না। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সংঘাতপূর্ণ সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব কানওয়াল সিবাল চুক্তিটিকে ভারতের স্বার্থের জন্য ‘খুবই নেতিবাচক’ উন্নয়ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এর জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল, গ্রিস, সাইপ্রাস ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত বিকল্প আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

সামনে কী?

মক্কা চুক্তি এখনই ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোটে পরিণত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, চুক্তিতে পারস্পরিক সামরিক সহায়তার বাস্তব কাঠামো ও সীমা এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে তিন দেশের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতার সমন্বয় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা একই ছাতার নিচে এলে আঞ্চলিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে ইরান-সৌদি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হবে।

সব মিলিয়ে, মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি শুধু তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দলিল নয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বাড়তে থাকা আত্মনির্ভরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এর প্রভাব ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল থেকে শুরু করে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত হিসাবেও পড়তে পারে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad