ভালো ফলনেও স্বস্তি নেই, পানির অভাবে পাট জাগ দিতে দুর্ভোগে কাউনিয়ার কৃষক

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩০ বিকাল
  • ৫৫৭৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

রংপুরের কাউনিয়ায় চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে জাগ দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। পাট জাগ দেওয়ার জন্য দূরের খাল, বিল ও নদীতে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে শ্রম ও পরিবহন খরচ। পাশাপাশি পানির সংকটে পাটের আঁশের মান নষ্ট হওয়ায় ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে কাউনিয়ায় ৭৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৮৬৫ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ১০১ বেল।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক পাট কেটে জমির পাশে, রাস্তার ধারে, খাল-বিল ও জলাশয়ের পাশে স্তূপ করে রেখেছেন। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কেউ কেউ অল্প পানিতে পাট জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার অনেক কৃষক কয়েক কিলোমিটার দূরের খাল বা নদীতে পাট নিয়ে গিয়ে জাগ দিচ্ছেন। এতে তাদের অতিরিক্ত শ্রম ও পরিবহন ব্যয় হচ্ছে।

গদাই গ্রামের কৃষক আল-আমিন বলেন, ‘পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু পানির অভাবে পাট জাগ দিতে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে। দূরে নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে, এতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে।’

রাজিব গ্রামের কৃষক বাবু হাজি বলেন, ‘পাট কাটার পর পর্যাপ্ত পানিতে জাগ দিতে পারিনি। পাট ধোয়ার পর আঁশের রং কালচে হয়ে গেছে। সাদা আঁশের তুলনায় এ ধরনের পাটের দাম পাইকাররা কম দিতে চায়।’

কৃষকেরা জানান, পর্যাপ্ত পানির অভাবে উপজেলার শত শত কৃষক পাট জাগ দেওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। দূরের খাল, বিল ও নদীতে পাট নিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, ‘এবার আগেই পানি নেমে যাওয়ায় বর্তমানে পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। কৃষকেরা পাট কেটে অন্য জায়গায় নিয়ে জাগ দিচ্ছেন। এতে তাদের খরচ কিছুটা বেশি হচ্ছে। তবে উপজেলার বিভিন্ন খাল ও ডোবায় পানি রয়েছে। সেখানে কৃষকেরা পাট জাগ দিতে পারবেন।’

স্থানীয় পাটচাষিরা বলছেন, পানির সংকটের পাশাপাশি বাড়তি উৎপাদন ও জাগ দেওয়ার খরচ বিবেচনায় নিয়ে পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে ভালো ফলন হলেও কৃষকের কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad