মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না, উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২০ দুপুর
  • ৫১২৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না; সামনে এগিয়ে গিয়ে নিজেদের পাশাপাশি দেশের ভাগ্যও পরিবর্তন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার সময়, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সময়। এজন্য সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্যায় গৃহহীন ১০০ পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন।

দেশকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না

দেশকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশ একসময় বাংলাদেশের চেয়েও পিছিয়ে ছিল। কিন্তু কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা নিজেদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশকেও সেই পথে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, এখন একটি লক্ষ্য ও একটি উদ্দেশ্য—জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন এবং দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন।

মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত শিল্পায়নের পরিকল্পনা

চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বড় সম্ভাবনা হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীন সফরে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। সেখানে কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে চট্টগ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বেকারত্ব কমার সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও বাড়বে।

পাঁচ বছরে উপজেলা হাসপাতাল হবে ১০০ শয্যার

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

কর্মসংস্থান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য

সরকারের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।

তরুণ ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশের উন্নয়নে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বসে থাকলে চলবে না। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প-কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। ফসল উৎপাদনও বাড়াতে হবে।

প্রত্যেক মানুষকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষের হাতকে শ্রমের হাতে রূপান্তর করতে চাই। যাতে প্রত্যেক মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং নিজের শ্রমের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।

৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল এবং এর কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারা দেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

বাঁশখালী এলাকার ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতেও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী চার বছর এ কার্যক্রম চলবে এবং পর্যায়ক্রমে আরও অনেক নারী এর আওতায় আসবেন।

লবণ চাষিরাও পাবেন কৃষক কার্ড

বাঁশখালীর লবণ চাষিদের বিষয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু ধান, শাক-সবজি বা অন্যান্য ফসলের চাষিরাই কৃষক কার্ড পাবেন না; লবণ চাষিরাও এর আওতায় আসবেন।

লবণের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, লবণ চাষিরা যাতে স্বাবলম্বী ও সচ্ছল হতে পারেন, সে জন্য আলোচনা করে একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে সেই মূল্য সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজন শান্তি-শৃঙ্খলা

কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের জন্য দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে মিল-কারখানা স্থাপন করতে হলে দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা থাকতে হবে। বিশৃঙ্খলা থাকলে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, কোনো এলাকায় গন্ডগোল হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কারণ ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার ক্ষতি চান না। একইভাবে বিনিয়োগকারীরাও চান, কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নিরাপদে বন্দরে পৌঁছাবে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নির্বিঘ্নে কারখানায় আসবে।

বন্যার্তদের পুনর্বাসনে নতুন ঘর

বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্যায় বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিন ১০০টি অসহায় পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক দুঃস্থ মানুষকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা এবং কিছু অসহায় নারীকে চাল দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে।

বাঁশখালীর উপকূলীয় মানুষের সুরক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ সরকারের পরিকল্পনার একটি অংশ। ইনশাআল্লাহ, এর কাজ শুরু হবে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad