সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত নিহত হওয়ার ঘটনায় বিচার ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আলোচনা চলাকালে উপাচার্যের (ভিসি) কার্যালয়ে বহিরাগত এক ছাত্রদল নেতার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আলোচনা চলাকালে হঠাৎ উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ও স্পর্শকাতর একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলার সময় কোনো পূর্বানুমতি ছাড়া বহিরাগত রাজনৈতিক নেতার প্রবেশের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা হট্টগোল শুরু করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। সেখানে একজন বহিরাগত রাজনৈতিক নেতা কার অনুমতিতে প্রবেশ করেছেন, তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বিষয়ে কোনো বহিরাগত রাজনৈতিক নেতার হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলেও তারা মন্তব্য করেন।
তবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সহমর্মিতা ও একাত্মতা প্রকাশ করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। সকালে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানতে পারেন। তাদের ‘লোকাল অভিভাবক’ এমপি মজিবুর রহমান সরোয়ার তাকে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি জানাতে বলেছিলেন। সে কারণেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সেখানে কেন এসেছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ বলেন, তারা সেখানে কেন এসেছেন, সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই। তাদের আসার বিষয়টি তাকে আগে থেকে জানানো বা অবগত করা হয়নি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক