গোদাগাড়ীতে সিজারের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১০:০০ দুপুর
  • ৪৫৬৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় মোসা. কমলি বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতে গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। এতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসকের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল না।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোদাগাড়ী পৌর সদরের মেডিকেল মোড় এলাকার মনিরুল ইসলামের স্ত্রী কমলি বেগমকে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে সন্তান প্রসবের জন্য গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। গাইনি চিকিৎসক ডা. শারমিন শওকত তার অস্ত্রোপচার করেন। অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. তানজিল কুমার। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মৃতের স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে কমলি বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে রেখেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

প্রসূতির ভাতিজা রুবেল ইসলাম তার চাচি পারভিন বেগমের বরাত দিয়ে বলেন, অস্ত্রোপচারে দীর্ঘ সময় লাগায় তিনি জানালা দিয়ে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে দেখার চেষ্টা করেন। এ সময় একটি বড় চাদর রক্তে ভেজা অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।

রুবেল ইসলামের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতায় একটি রক্তনালি কেটে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ওই সময় দ্রুত রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কমলি বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালের ম্যানেজার আব্দুল খালেক বলেন, ডা. শারমিন শওকত অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. তানজিল কুমার, হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ডা. শারমিন শওকত বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। এতে চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না।

অপারেশন থিয়েটারে হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুর উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শারমিন শওকত বলেন, সহযোগী হিসেবে কাউকে উপস্থিত থাকতে হয়, সে কারণেই তিনি সেখানে ছিলেন। তবে তিনি প্রশিক্ষিত বা অভিজ্ঞ সহযোগী কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসকটি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এর আগেও ওই হাসপাতালে প্রসূতির অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের পরিচালক নিজেও কখনো কখনো সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে যুক্ত হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

মৃতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান এবং বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

প্রসূতি কমলি বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্বজনদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে কমলি বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad