জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার কূটনীতিক ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নির্বাচিত হলে তিনি জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার পাশাপাশি প্রথম ইহুদি মহাসচিবও হবেন।
বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএনসিটিএডির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গ্রিনস্প্যান। তার বাবা-মা পোল্যান্ড থেকে কোস্টারিকায় অভিবাসী হয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের হাতে তার নানা-নানী নিহত হন।
জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোপন ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী ও ১০ অস্থায়ী সদস্যের ভোটে গ্রিনস্প্যান ১০টি সমর্থন পেয়েছেন। চার সদস্য কোনো মতামত দেননি এবং একজন তার প্রার্থিতার বিরোধিতা করেছেন।
গ্রিনস্প্যানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গায়ানার সাবেক জাতিসংঘ দূত ক্যারোলিন রড্রিগেস-বার্কেট পেয়েছেন নয়টি সমর্থনের ভোট। তার প্রার্থিতার বিপক্ষে ভোট পড়েছে দুটি।
বর্তমান জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। প্রচলিত আঞ্চলিক পালাক্রমের নীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা থেকে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রিনস্প্যানের নেতৃত্বে ইউএনসিটিএডি ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর ইসরাইলি দখলদারিত্বের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইসরাইলি দখলদারিত্বের কারণে ফিলিস্তিনি অর্থনীতি আনুমানিক ২১২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে।
এদিকে চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলেটসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী প্রভাবশালী দেশগুলোর বিরোধিতার মুখে রয়েছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচিত হতে নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত নয়টি ভোট প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কোনো দেশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভেটো দিলে তার নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। নির্বাচনপ্রক্রিয়া আগামী অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক