তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি, এক বছরে বেড়েছে ৩৪ শতাংশ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৭ দুপুর
  • ৫০৬৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দেশের বাণিজ্য ঘাটতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও রপ্তানি আয় কমেছে। এতে এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে। এর আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে এ ঘাটতি ছিল ২০ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৪৩ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ১ শতাংশ। বিপরীতে আমদানি ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে। এক বছরে আমদানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের পর এটিই এক বছরে আমদানি বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাণিজ্য ঘাটতির এই বড় বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতের দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এর পেছনে অভ্যন্তরীণ কারণের চেয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবই বেশি। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক, পশ্চিমা দেশগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি হওয়া সংকট এর জন্য দায়ী।

তাদের মতে, এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা ও নতুন ক্রয়াদেশ কমেছে। ফলে দেশের রপ্তানি আয় আশানুরূপ বাড়েনি। একই সময়ে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি আরও বড় হয়েছে।

তবে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্টস) বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। এর অন্যতম কারণ প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এতে চলতি হিসাবের ঘাটতি প্রায় ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে, গত অর্থবছরে দেশের আর্থিক হিসাবে ৭৮৯ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৩৫৯ কোটি ডলার। মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি অনুদান ও বিদেশি ঋণের ওপর ভর করেই আর্থিক হিসাবে এ উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যালান্স অব পেমেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর একটি হলো চলতি হিসাব। একটি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হলো চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা। কিন্তু রেমিট্যান্সে রেকর্ড প্রবাহ থাকা সত্ত্বেও বাণিজ্য ঘাটতি বড় হওয়ায় বাংলাদেশের চলতি হিসাব এখনো ঘাটতিতে রয়েছে।

তাদের মতে, রপ্তানি আয় না বাড়িয়ে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ধরে রাখা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তাই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad