নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪১ দুপুর
  • ৭৯৯১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। কৃষি-প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, সবুজ জ্বালানি, ফার্মাসিউটিক্যালস, চামড়া, পাট, টেকসই বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার নিউজিল্যান্ড ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের (এনজেডটিই) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ তুলে ধরে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে এনজেডটিইর মার্কেট ম্যানেজার (দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া) র‍্যাচেল ম্যাকগাকিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও উপসচিব (এফটিএ) ফারহানা ইসলাম।

বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বছরে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে। এর মধ্যে নিউজিল্যান্ড থেকে বাংলাদেশের আমদানিতে দুগ্ধজাত ও ধাতব পণ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন ডলার। এসব রপ্তানির বড় অংশই তৈরি পোশাকনির্ভর।

দুই দেশের বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী করতে অ-পোশাক পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এনজেডটিইর সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, টেকসই বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার জন্য নিউজিল্যান্ডের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের সক্ষমতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিভিন্ন সনদ ও আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থার আওতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানানো হয়। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্য খাতে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন জেনেরিক ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে বলে বাংলাদেশ পক্ষ উল্লেখ করে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের ৬ লাখ ৫০ হাজারের বেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীর দক্ষতার বিষয়টি তুলে ধরে সফটওয়্যার, ফিনটেক ও ডিজিটাল সেবা খাতে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নিউজিল্যান্ডের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য, কোল্ড-চেইন লজিস্টিকস, কৃষি-প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বাজারেও প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

সহযোগিতাকে দ্রুত কার্যকর করতে বৈঠকে তিনটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—এনজেডটিইর দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া দলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন, বাংলাদেশি ফার্মাসিউটিক্যাল, আইটি ও চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়িক ক্রেতাদের ভার্চুয়াল বিটুবি বৈঠকের আয়োজন এবং দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (এমএফএটি) সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও কার্যকর করা।

এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক পরিষদ প্রতিষ্ঠা এবং বাণিজ্য মেলা আয়োজন ও অংশগ্রহণের বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার ও উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উচ্চমূল্যের পণ্য ও সেবা রপ্তানির সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad