জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ। নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দাদের আমন্ত্রণে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে গিয়ে চায়ের আড্ডায় অংশ নেবেন তিনি।
‘মন্ত্রীর সাথে চা, ঠিকানা আপনার বাসা’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় আগামীকাল বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকা-১৩ আসনের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন প্রতিমন্ত্রী। আনুষ্ঠানিক সভা কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের ঘরে গিয়ে তাদের কথা শোনাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
কর্মসূচিতে এক কাপ চায়ের আড্ডায় এলাকার মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন পরামর্শ শুনবেন ববি হাজ্জাজ। এ উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো—জনগণকে জনপ্রতিনিধির কাছে যেতে হবে না; বরং জনপ্রতিনিধিই যাবেন জনগণের ঘরে।
ঢাকা-১৩ আসনের বাসিন্দারা অনলাইনে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিজেদের বাড়িতে প্রতিমন্ত্রীকে চায়ের আড্ডায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকার মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি তৃণমূলের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নাগরিক সমস্যাগুলো কাছ থেকে জানার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, জনপ্রতিনিধিত্ব শুধু সংসদে বক্তব্য দেওয়া কিংবা অফিসে বসে মানুষের কথা শোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের কাছে যেতে হবে, তাদের জীবনযাপন দেখতে হবে এবং তাদের কথা সরাসরি শুনতে হবে। ঢাকা-১৩-এর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও গভীর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এক কাপ চায়ের আড্ডায় হয়তো এমন অনেক কথা উঠে আসবে, যা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বলা সম্ভব হয় না। আমার নির্বাচনি এলাকার প্রতিটি মানুষের মতামত ও পরামর্শ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’
ঢাকা-১৩ আসনকে আরও বাসযোগ্য, আধুনিক ও জনবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে জনগণের অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী।
‘চায়ের আড্ডা’ কর্মসূচিতে নাগরিক সমস্যা, শিক্ষা, যোগাযোগ, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানসহ স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন ববি হাজ্জাজ। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ ও নাগরিকদের বিভিন্ন প্রস্তাব সম্পর্কেও তিনি জানতে চাইবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জনগণের ঘরে গিয়ে সরাসরি মতবিনিময়ের এই উদ্যোগ ঢাকা-১৩ আসনে জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলার এ কর্মসূচি অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় নেতৃত্বের একটি নতুন দৃষ্টান্তও তৈরি করতে পারে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক