সেক্যুলার দলে যোগ দিলে ‘কওমিত্ব’ ক্ষুণ্ন না হলে জামায়াতে যোগ দিলে কেন হবে—প্রশ্ন মুফতি উসামার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪১ রাত
  • ৩৬১২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ইসলামিক স্কলার ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রুকন মুফতি আলী হাসান উসামা বলেছেন, জামায়াতের আকিদা নিয়ে যে সমালোচনা করা হয়, তা ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল; এখানে দেওবন্দি, মাদানি, আজহারি, হানাফি, লা-মাযহাবি, সুন্নি ও তাবলিগ জামাতের অনুসারীসহ বিভিন্ন মতধারার মানুষ সম্পৃক্ত রয়েছেন। এমনকি অমুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিও দলটির প্রার্থী হয়েছেন। তাই কোনো ব্যক্তির আকিদাকে পুরো দলের আকিদা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

রোববার এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানে উদ্বিগ্ন হেফাজত’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

মুফতি উসামা বলেন, “আকিদা যার যার, দ্বীন কায়েমের রাজনীতি সবার।” তাঁর ভাষ্য, জামায়াত কখনোই দাবি করে না যে দলটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আকিদা অনুসরণ করে। বরং দলটির গঠনতন্ত্রে কুরআন ও সহিহ হাদিসভিত্তিক আকিদার কথাই উল্লেখ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতবিরোধী প্রচারণার পেছনে আদর্শগত নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, কওমি একটি শিক্ষাধারা, কোনো রাজনৈতিক দল নয়। তাই কওমি শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি কওমি অঙ্গনের কয়েকজন আলেমের বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার বিষয় উল্লেখ করেন।

মুফতি উসামার দাবি, “সেক্যুলারিজম সুস্পষ্ট কুফর।” তাঁর প্রশ্ন, যদি সেক্যুলার রাজনৈতিক দলে যুক্ত হলে ‘কওমিত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে বিশ্বের বৃহৎ ইসলামি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলে কেন কওমিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে?

দেওবন্দি পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেওবন্দিয়াত কোনো রাজনৈতিক দলের নাম নয়; এটি তাওহিদ, সুন্নাহ ও ইসলামের আদর্শিক চর্চার ধারাবাহিকতা। তিনি জানান, অতীতে একাধিক কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ভবিষ্যতেও কওমি শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার ইচ্ছা রয়েছে। তাই কাউকে ইচ্ছেমতো কওমি অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করার এখতিয়ার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে আলোচিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কওমি ধারার কয়েকজন পরিচিত আলেম ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন এবং আরও অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একই পথে এগোনোর আলোচনা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি দলের নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, বৈঠকের মূল এজেন্ডা না হলেও আলোচনার একপর্যায়ে কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদানের বিষয়টি উঠে আসে এবং এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাঁর মতে, বিভিন্ন ইসলামী জোটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী জামায়াতের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কওমি তরুণদের একটি অংশ বিএনপির প্রতিও ঝুঁকছেন, তবে সে বিষয়টি বৈঠকে বিস্তারিত আলোচিত হয়নি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad