রাশিয়ায় রহস্যজনক মৃত্যু: কুষ্টিয়ার শিক্ষার্থী অনিকের দাফন সম্পন্ন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ রাত
  • ২৩৯৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিহত কুষ্টিয়ার শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিকের (২৬) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) বাদ জোহর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলা জামে মসজিদ সংলগ্ন মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দুপুর ১২টার দিকে অনিকের মরদেহ নিজ গ্রাম সওড়াতলায় পৌঁছালে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর কান্নায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শেষবারের মতো প্রিয় সন্তানকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন।

নিহত খালেকুজ্জামান অনিক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সওড়াতলা গ্রামের কৃষক মানোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে অবস্থিত সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। প্রায় আড়াই বছর আগে বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

জানাজা-পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। সরকারি সহায়তা বা বিশেষ তহবিল না থাকায় স্বজনদের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। তিনি জানান, অনিকের মরদেহ দেশে আনতে প্রথমে প্রায় ২৫ লাখ টাকা দাবি করা হলেও রাশিয়ার দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় প্রায় ৮ লাখ টাকায় মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।

নিহতের চাচা মুফতি আলী হোসাইন ফারুকী সাংবাদিকদের জানান, অনিক ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। তার মা মারা গেছেন। বাবা ও বড় ভাইকে নিয়েই ছিল তাদের পরিবার। প্রায় আড়াই বছর আগে বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ায় যান তিনি। গত ২১ জুন পরিবার জানতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পাঁচতলা ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২০ জুন রাশিয়ার সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে অনিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

দীর্ঘ এক মাস ১২ দিন পর রোববার দুপুরে অনিকের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। পরে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী শেষ শ্রদ্ধা জানান। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad