প্রবাসীর লাশ বুঝে পেতে দীর্ঘ ভোগান্তি, দুর্নীতির অভিযোগ; দ্রুত সেবার দাবি কর্তৃপক্ষের

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০২:১২ দুপুর
  • ১১৫৮৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বিদেশে কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর তা স্বজনদের কাছে বুঝে নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, কাগজপত্রের জটিলতা এবং দালালচক্রের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, বর্তমানে প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে কোনো অযথা বিলম্ব হয় না।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী ওমর ফারুক সৌদি আরবের রিয়াদে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। গত বছরের ডিসেম্বরে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালেও স্বজনদের হাতে তা বুঝে পেতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরে কাগজপত্র যাচাই ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বহু বাংলাদেশি স্বাভাবিক মৃত্যু কিংবা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কমিউনিটির সহযোগিতায় মরদেহ দেশে পাঠানো হলেও বিমানবন্দর থেকে তা গ্রহণের সময় অনেক পরিবার জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়ার অভিযোগ করে আসছে।

তবে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেন, প্রবাসী কর্মীর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি দাফন ব্যয় বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি কুয়েত, মালয়েশিয়া ও লিবিয়া থেকে একযোগে ৩৪ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে এসব মরদেহ দেশে আনতে বিলম্ব হয়েছিল। প্রত্যেক পরিবারের হাতে দাফন ব্যয় বাবদ ৩৫ হাজার টাকা করে সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অনেক সময় গ্রামাঞ্চল থেকে আসা স্বজনরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে অবগত না থাকায় সমস্যায় পড়েন। এই সুযোগে বিমানবন্দর এলাকায় সক্রিয় একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করে। তবে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র থাকলে মরদেহ বুঝে নিতে সাধারণত কোনো জটিলতা হয় না।

বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে প্রবাসীদের মরদেহ দেশের যেকোনো জেলায় বিনা খরচে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ সেবা আরও জোরদার করতে নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্সও যুক্ত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহ গ্রহণ এবং আর্থিক সহায়তা পেতে মৃত ব্যক্তির পাসপোর্টের অনুলিপি, ওয়ারিশ সনদ, নিকটাত্মীয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, মৃত্যু সনদ, বাংলাদেশ দূতাবাসের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) এবং এয়ারওয়েজ বিলের মূল কপি জমা দিতে হয়।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিদেশ থেকে ৪ হাজার ৮১৩ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫৫২।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের স্বজনদের হয়রানি কমাতে বিমানবন্দরে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, কাগজপত্র যাচাইয়ের ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad