সলঙ্গায় প্রতারণার মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে ধরা খেলেন প্রতারক মজনু আলম

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ দুপুর
  • ২৮২১০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার হাটিকুমরুলের গোলকপুরে প্রতারণার মাধ্যমে মোক্তার হোসেন নামের এক মুদি দোকানদারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ফেঁসে গেলেন গোলকপুর গ্রামের 'মাসুমা মেডিক্যাল সেন্টারের মালিক মজনু আলম।

পরবর্তীতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত গ্রাম্য শালিসে বসে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে, অভিযুক্ত মজনু আলমকে সেই ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলকপুর গ্রামের অশিক্ষিত মুদি দোকানদার মোক্তার হোসেনের বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে একটি বেনামী ভুয়া কোম্পানিকে নিয়ে আসেন একই এলাকার গ্রাম্য ডাক্তার মজনু। চুক্তি অনুযায়ী বাড়ি ভাড়ার অগ্রিম জামানত হিসেবে মোক্তারকে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মোক্তার হোসেন পড়ালেখা না জানার সুযোগ নিয়ে একটি স্ট্যাম্পে জামানতের কথা না লিখে, উল্টো "মোক্তার হোসেন ৯ লাখ টাকার মালামাল নিয়েছেন"—এমন একটি ভুয়া ডিড (চুক্তিপত্র) তৈরি করা হয়। আর এই প্রতারণামূলক ডিডে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন ওই ওই প্রতারক মজনু আলম।

​পরবর্তীতে মোক্তার হোসেন তার পাওনা জামানতের টাকা চাইতে গেলে ভুয়া কোম্পানিটি উল্টো তার কাছে ৯ লাখ টাকা দাবি করে বসে। এতে দিশেহারা হয়ে মোক্তার হোসেন প্রতারক মজনু আলমের স্মরণাপন্ন হলে, মজনু তাকে উল্টো ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। ভুয়া কোম্পানির লোক সেট করে তাদের মাধ্যমে প্রতারক মজনু আলম বিষয়টি নিস্পতি করতে ঘরমালিক মোক্তার হোসেন এর কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে আপোষ করার সিদ্ধান্ত দেয়।

পরে মেক্তার হোসেন ৩ লক্ষ টাকা পরিশোধ করলে সেই টাকা প্রতারক মজ্নু আলম

তার নীজ একাউন্টে জমা নেন।

​বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী মোক্তার হোসেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উক্ত শালিসে হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী সিদ্দিকী এর ছেলে শিহাব উদ্দিন সিদ্দিকী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রঞ্জু আলম মুন্সি এবং সিদ্দিকিয়া কমপ্লেক্সের ম্যানেজার আব্দুল হালিমসহ এলাকার মাতব্বরগণ উপস্থিত ছিলেন।

​শালিসে মোক্তার হোসেনের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলে বিচারকরা প্রতারক আলম কে ৩লক্ষ ৫০ হাজর টাকা জরিমা করেন।

এঘটনায় প্রতারক মজনু আলম সালিসে উপস্থিত না হয়ে রায় মেনে নিয়ে ২ লক্ষ টাকার চেক দেয়। বাকি টাকা দেয়ার জন্য ১২ আগষ্ট পর্যন্ত সময় নেয়। এবং শালিসের রায় মেনে চলতি মাসের ১১ তারিখে মজনু তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সেই ৩ লাখ টাকার চেকের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেন।

এ বিষয়ে মজনু আলমের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয় নিয়ে শালিস হয়েছে। আমি তাকে টাকা ফেরত দিয়ে দিয়েছি। আপনারা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর কোন নিউজ করেন না।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোক্তার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে বলেন, গ্রাম্য ডাক্তার মজনু আমার কাছে থেকে প্রতারণা করে যে টাকা নিয়েছিলো, এলাকার গ্রাম্য প্রধানেরা এক শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে আমার টাকা ফেরত নিয়ে দিয়েছে।

​এদিকে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাম্য ডাক্তার মজনুর বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। ইতিপূর্বেও তিনি সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে নানা কৌশলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন এবং প্রতারণা করেই আজ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad