জাহাজে বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি, মূল স্থানে ঢুকতে পারছে না তদন্তকারী দল

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৭ দুপুর
  • ৬৮০০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে দুর্ঘটনার তদন্তে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাহাজের ভেতরে থাকা বিষাক্ত গ্যাস। গ্যাসের তীব্র ঝুঁকির কারণে তদন্তকারী দল এখনো জাহাজের মূল দুর্ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে গ্যাসের উৎস কোথায় ছিল, জাহাজ কাটার আগে যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত।

জাহাজের অভ্যন্তরের বিষাক্ত গ্যাস নিরাপদে অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত সরেজমিন তদন্তও সম্ভব নয়। এতে দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত থাকা স্থানটিই তদন্তকারীদের নাগালের বাইরে রয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শাখা আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে। এতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং মেরিন সার্ভেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসীর আরাফাত খান, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জহির উদ্দিন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার মো. আরাফাত হোসেন এবং মেরিন সার্ভেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে পাঁচ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছিল। তবে জাহাজের বদ্ধ প্রকোষ্ঠে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতা বিবেচনায় পরে আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাউকে জাহাজের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে মূল দুর্ঘটনাস্থলে প্রবেশ করা সম্ভব না হলেও পারিপার্শ্বিক তথ্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এখন বিশেষজ্ঞ দলের সরেজমিন তদন্তের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্টরা। জাহাজের ভেতরের পরিস্থিতি নিরাপদ হওয়ার পর তদন্তকারীরা মূল স্থানে প্রবেশ করতে পারলেই গ্যাসের উৎস, জাহাজটি যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কি না এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না—এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad