লজ্জাশীলতা ও দানের অনন্য দৃষ্টান্ত, ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৯ দুপুর
  • ৩১৮২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ইসলামের ইতিহাসে হজরত উসমান ইবন আফফান (রা.) অন্যতম মর্যাদাসম্পন্ন সাহাবি। অতুলনীয় লজ্জাশীলতা, উদারতা, দানশীলতা এবং কোরআনের খেদমতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি ছিলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত ১০ সাহাবির অন্যতম।পরিচয় ও জীবনের সংক্ষিপ্ত তথ্য

হজরত উসমান (রা.)-এর পূর্ণ নাম উসমান ইবন আফফান ইবন আবিল আস আল-কুরাইশী আল-উমাবী। তাঁর কুনিয়াত ছিল আবু আবদুল্লাহ। তিনি কুরাইশের বনু উমাইয়্যা গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। আনুমানিক ৫৭৬ থেকে ৫৭৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মক্কায় তাঁর জন্ম।

তাঁর প্রসিদ্ধ উপাধি ‘যুন-নূরাইন’, অর্থাৎ ‘দুই নূরের অধিকারী’। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দুই কন্যা হজরত রুকাইয়া (রা.) ও হজরত উম্মে কুলসুম (রা.)-কে ধারাবাহিকভাবে বিয়ে করার কারণে তিনি এ উপাধিতে ভূষিত হন।

ইসলামে বিশেষ মর্যাদা

হজরত উসমান (রা.) ইসলামের প্রথম যুগে ঈমান গ্রহণকারীদের অন্যতম। নবীদের পর এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁর অবস্থান তৃতীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মুসলিম উম্মাহর তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।

তাঁর খিলাফতের সময় ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়। পাশাপাশি কোরআনের পাঠ সংরক্ষণ ও মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর উদ্যোগে কোরআনের মুসহাফের পাঠ একীভূত করে বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।

দানশীলতায় অনন্য দৃষ্টান্ত

হজরত উসমান (রা.) ছিলেন অত্যন্ত দানশীল। তাবুক অভিযানের সময় তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ দান করে মুসলিম বাহিনীকে সহায়তা করেন। মদিনার রুমা কূপ মুসলিমদের জন্য ওয়াক্ফ করার ঘটনাটিও তাঁর দানশীলতার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

লজ্জাশীলতা ছিল তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য

হজরত উসমান (রা.)-এর লজ্জাশীলতা ছিল অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। তাঁর এই বিশেষ গুণ সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর একটি হাদিসে তাঁর মর্যাদা ফুটে উঠেছে।

হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি সে লোককে (উসমানকে) লজ্জা করব না, ফেরেশতারা পর্যন্ত যাকে দেখলে লজ্জা পান।’ —সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪০১।

শাহাদাত

হজরত উসমান (রা.) ৩৫ হিজরি, অর্থাৎ ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মদিনায় শাহাদাত বরণ করেন। বর্ণনা অনুযায়ী, বিদ্রোহীদের হাতে তিনি শাহাদাত লাভ করেন এবং সে সময় তিনি কোরআন তিলাওয়াতরত ছিলেন।

ইসলামের ইতিহাসে তাঁর জীবন ঈমান, লজ্জাশীলতা, ত্যাগ, দানশীলতা এবং কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রধান সূত্র: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, ইবন কাসিরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া এবং হাদিসভিত্তিক উসমান (রা.)-এর ফজিলতসংক্রান্ত আলোচনা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad