গবেষণাপত্র প্রকাশ ও সাইটেশনে প্রণোদনা দেবে নোবিপ্রবি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৮ দুপুর
  • ৩২০০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রমে শিক্ষক-গবেষকদের আরও উৎসাহিত করতে নতুন প্রণোদনা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। নতুন নীতিমালায় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি গবেষণাকর্মের সাইটেশনকেও প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ভেরিফায়েড গুগল স্কলার প্রোফাইলে অর্জিত প্রতি ১০০টি সাইটেশনের জন্য বছরে ৫ হাজার টাকা হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ডেটাবেজে অধিভুক্ত কিউ১ শ্রেণির জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য ৪০ হাজার টাকা, কিউ২-এর জন্য ৩০ হাজার, কিউ৩-এর জন্য ২০ হাজার এবং কিউ৪ শ্রেণির জার্নালের জন্য ১০ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

জার্নালের মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে ওয়েব অব সায়েন্স, জার্নাল সাইটেশন রিপোর্টস, সিমাগো জার্নাল র‌্যাঙ্কিং এবং স্কোপাসের বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হবে।

নোবিপ্রবির আগের নীতিমালায় শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা ছিল। নতুন নীতিমালায় এর সঙ্গে সাইটেশন যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গবেষণাপত্র প্রকাশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে একটি গবেষণার প্রভাব বা ‘রিসার্চ ইমপ্যাক্ট’ মূল্যায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো গবেষকের প্রকাশিত গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে যত বেশি ব্যবহৃত ও উদ্ধৃত হবে, আন্তর্জাতিক পরিসরে নোবিপ্রবির গবেষণার দৃশ্যমানতাও তত বাড়বে।

তবে প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে নোবিপ্রবির শিক্ষক হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রের ফার্স্ট অথর অথবা করেসপন্ডিং অথর হতে হবে। শিক্ষা ছুটিসহ অন্যান্য ছুটিতে থাকাকালে এ প্রণোদনার জন্য আবেদন করা যাবে না।

এ ছাড়া পিএইচডি ছুটির সময়ে প্রকাশিত গবেষণাপত্র অথবা ওই সময়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত ছুটি শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত হলেও তা প্রণোদনার আওতায় আসবে না। তবে সংশ্লিষ্ট গবেষণা নোবিপ্রবির সঙ্গে যৌথভাবে বা কলাবোরেটিভ গবেষণা হিসেবে পরিচালিত হলে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

একটি গবেষণাপত্রের জন্য ফার্স্ট অথর অথবা করেসপন্ডিং অথর—দুজনের মধ্যে যেকোনো একজন মাত্র একবার প্রণোদনার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

একজন গবেষক সর্বোচ্চ তিনটি প্রকাশিত গবেষণাপত্রের জন্য প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচিত হবেন। তবে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে বরাদ্দ পাওয়া অর্থের ভিত্তিতে প্রণোদনার সংখ্যা ও বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেল।

নোবিপ্রবির র‌্যাঙ্কিং অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট সেলের অতিরিক্ত পরিচালক ও নোবিপ্রবি সাস্টেইনেবিলিটি কমিটির সদস্যসচিব ড. ফাহদ হুসাইন বলেন, কিউএস ও টাইমস হায়ার এডুকেশনের (টিএইচই) মতো আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়ে মানসম্পন্ন প্রকাশনা ও সাইটেশনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের গড় সাইটেশন সংখ্যাও বিবেচনায় নেওয়া হয়, যা গবেষণার সুনাম বা রিসার্চ রেপুটেশনকে প্রভাবিত করে। ফলে মানসম্পন্ন গবেষণায় উৎসাহ দিতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

নোবিপ্রবি রিসার্চ সেলের পরিচালক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, গবেষকদের প্রণোদনা দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে এবং আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে আবেদনগুলো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইউজিসির নতুন অর্থবছরের নীতিমালা অনুযায়ী গবেষণা তহবিলের ৮৫ শতাংশ স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণায় ব্যয় করতে হবে। বাকি ১৫ শতাংশ রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড ও অন্যান্য বিবিধ খাতে ব্যয়ের সুযোগ রয়েছে।

উপ-উপাচার্য আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দসংক্রান্ত চিঠি এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি। ফলে গবেষকদের প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি বরাদ্দ পাওয়া গবেষণা তহবিলের ওপর নির্ভর করবে। গবেষণা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নোবিপ্রবিকে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এ নীতিমালা নোবিপ্রবির শিক্ষক ও গবেষকদের শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলতে সক্ষম মানসম্পন্ন গবেষণা পরিচালনাতেও উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে সাইটেশনভিত্তিক প্রণোদনা এমন গবেষণায় আগ্রহ বাড়াতে পারে, যা আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে নোবিপ্রবির গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা ও ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad