সিরিয়ায় ইসরাইলের হামলা ঘিরে ওয়াশিংটন-আঙ্কারা সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১২ বিকাল
  • ৪৯৩৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরাইলের হামলাকে কেন্দ্র করে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তুরস্কের সীমান্তের কাছাকাছি ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার সম্পর্কেও অস্বস্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

গত ১৮ আগস্ট সিরিয়ার ইদলিবের গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরাইলি যুদ্ধবিমান। কয়েক বছর ধরে ঘাঁটিটি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। হামলায় মূলত রানওয়েগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ফলে সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থাপনা ধ্বংসের চেয়ে হামলাটিকে তুরস্কের প্রতি একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

ইসরাইলের দাবি, সিরিয়া ওই বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে সিরিয়া ও তুরস্ক উভয় দেশই সেখানে তুরস্কের কোনো সেনা উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছে।

ঘটনার পর তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক জানান, হামলার প্রায় ছয় দিন আগে ইসরাইল ওয়াশিংটনকে ওই ঘাঁটিতে সম্ভাব্য তুর্কি সামরিক তৎপরতার বিষয়ে জানিয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে ইসরাইলকে জানায়, সেখানে তুরস্কের কোনো সামরিক তৎপরতা নেই। এরপরও ইসরাইল হামলা চালায়।

টম ব্যারাকের বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরাইল আশঙ্কা করেছিল, ওয়াশিংটন হামলার বিষয়ে তুরস্ককে সতর্ক করে দিতে পারে। এ কারণে হামলার বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাগ করেনি ইসরাইল। এমনকি তুরস্ককেও আগে থেকে জানানো হয়নি।

ইসরাইলি যুদ্ধবিমান তুরস্কের সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছিল বলেও জানান ব্যারাক। তাঁর মতে, তুরস্কের বিমানবাহিনী আগে থেকে বিষয়টি জানতে না পারায় দুই দেশের যুদ্ধবিমানের মধ্যে অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

টম ব্যারাক সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ভুলের অনিচ্ছাকৃত পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারত। ঘটনাটি ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরাইলের মধ্যকার আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, সিরিয়ার নিজস্ব ভূখণ্ডে বিমানঘাঁটি সংস্কার করা কিংবা তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করা দেশটির সার্বভৌম অধিকার। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ইসরাইলের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

এর আগে ইরান যুদ্ধের সময়ও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে এসেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের জুনের অভিযানের সময় দেশটি ইরানে পিকেকে-র ইরানি শাখা পিজেএকে-কে ব্যবহার করে স্থল অভিযান চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ওই পরিকল্পনা বন্ধ করে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানও হস্তক্ষেপ করেন।

পরে এরদোয়ান বলেন, ইরানে এ ধরনের স্থল অভিযান চালানো হলে তুরস্কও প্রতিক্রিয়া জানাতে পারত। এতে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতো।

সব মিলিয়ে সিরিয়ায় ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা শুধু দামেস্ক ও তেল আবিবের বিরোধের বিষয় নয়; বরং এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য এবং ওয়াশিংটন-আঙ্কারা-তেল আবিব সম্পর্কের মধ্যেও নতুন টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad