চীন-পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।

চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গেও সামরিক যোগাযোগ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চীনা অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি পরিবহন হেলিকপ্টার ও ড্রোন কেনার বিষয়ও প্রস্তাবিত প্যাকেজে রাখা হয়েছে।

জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার জন্য প্রস্তুত করা খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বাজেট চলতি অর্থবছরে পাওয়া গেলে দ্রুত ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী অর্থবছরে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান।

চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের সামরিক যোগাযোগ সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর প্রধানদের মধ্যে সম্ভাব্য জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনাসহ প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ-প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

আধুনিক সক্ষমতার লক্ষ্য

চীনের চেংদু জে-১০সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ হলো জে-১০সিই। এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট ৪.৫ প্রজন্মের এই বহুমুখী যুদ্ধবিমান আকাশযুদ্ধের পাশাপাশি স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা, নজরদারি এবং দূরপাল্লার বিভিন্ন মিশনে ব্যবহারের উপযোগী। এর সর্বোচ্চ গতি প্রায় মাখ ১.৮ থেকে ২। আধুনিক রাডার এবং বিভিন্ন ধরনের আকাশ থেকে আকাশ ও আকাশ থেকে স্থল ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতাও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জে-১০সিই কেনার উদ্যোগকে কেবল সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক কৌশলগত হিসাবও যুক্ত রয়েছে। তুলনামূলক কম ব্যয়ে আধুনিক সামরিক সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ থাকলেও যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় এবং বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রভাব

বাংলাদেশের জে-১০সিই কেনার সিদ্ধান্তে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে জে-১০ যুদ্ধবিমানের কথিত সাফল্যও প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন জাহেদুর রহমান। ওই সংঘাতে পাকিস্তানের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান এবং পিএল-১৫ দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বাংলাদেশ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছে বলে তিনি জানান।

তবে ওই সংঘাতে ঠিক কতটি ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল এবং কোন অস্ত্র কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল, তা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

২০টি যুদ্ধবিমানের প্রাথমিক পরিকল্পনা

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও মোট চুক্তিমূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এর আগে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০টি চীনা জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সম্ভাব্য এই চুক্তির মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২২০ কোটি ডলার।

প্রাথমিক হিসাবের ওই অর্থের মধ্যে শুধু যুদ্ধবিমান কেনার ব্যয়ই নয়; খুচরা যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ, পরিবহন, বিমা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের খরচও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা

জে-১০সিই কেনার উদ্যোগকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বিমানবাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যুদ্ধবিমান চীনা প্রযুক্তির পুরোনো প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল। নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান যুক্ত হলে আকাশ প্রতিরক্ষা, দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধ এবং বহুমুখী সামরিক অভিযানে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অ্যাটাক ও ভিআইপি পরিবহন হেলিকপ্টার এবং ড্রোন কেনার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা ক্রয় হিসেবে বিবেচিত হবে। একই প্যাকেজে বিভিন্ন ধরনের আকাশযান যুক্ত হওয়ায় বিমানবাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় উদ্যোগ হিসেবেও এটিকে দেখা হচ্ছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad