সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ১২ দফা দাবি তুলে ধরেন ফেডারেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মতিন।
তিনি বলেন, সারা দেশে প্রায় ৮০ লাখ নির্মাণ শ্রমিক কাজ করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব শ্রমিক দেশের মানুষের জন্য বহুতল ভবন, রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, সেতু ও আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করছেন। অথচ নির্মাণ শ্রমিকদের সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত করুণ, অবহেলিত ও মানবেতর।
আব্দুল মতিন বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্মাণ শ্রমিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা সরঞ্জাম—সেফটি হেলমেট, সেফটি বেল্ট, বুট ও গ্লাভস—ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কর্মক্ষেত্রে তাদের জীবনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয় না।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের আইনগত স্বীকৃতি হিসেবে নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৮০ লাখ নির্মাণ শ্রমিকের অধিকাংশই এ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ফলে তারা নিয়মিত বঞ্চনা ও মালিকপক্ষের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
১২ দফা দাবিসংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো তুলে ধরা হয়, সেগুলো হলো—
১. শ্রম আইন অনুযায়ী নির্মাণ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান করা।
২. কর্মক্ষেত্রে নির্মাণ শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৩. নির্মাণ শ্রমিকদের জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি নির্ধারণ করা।
৪. শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সময়ের জন্য ‘অবসর কল্যাণ’ ভাতা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগে পৃথক কল্যাণ তহবিল গঠন করা।
৫. কর্মক্ষেত্রে নিহত ও আহত নির্মাণ শ্রমিকদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
৬. নির্মাণ শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মস্থল ও শ্রম আইন বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।
৭. নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য জেলা ভিত্তিক সরকারি হাসপাতাল চালু করা।
৮. যেকোনো ধরনের নির্মাণকাজের জন্য সরকারি অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা এবং নির্মাণ ব্যয়ের ১ শতাংশ নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়া।
৯. নির্মাণ শ্রমিকদের সংশ্লিষ্ট শ্রম আইনের ধারা সংশোধন করে শ্রমিকবান্ধব আইন প্রণয়ন করা।
১০. প্রতিটি নির্মাণ শ্রমিককে গ্রুপ বিমার আওতায় আনা।
১১. নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সব ধরনের সরকারি ছুটি কার্যকর করা।
১২. নির্মাণ শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স