রায়গঞ্জে চোর সন্দেহে দুইজনকে নির্যাতন, পুলিশের উদ্ধারেও মিলল না মুক্তি! ‘ভুতুড়ে মামলায়’ প্রায় এক মাস জেল

  • পারভেজ সরকার,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ বিকাল
  • ৫২৪৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চোর সন্দেহে সোহাগ খলিফা (২৭) ও বাদশা খলিফা (৪৮) নামে দুই ব্যক্তিকে ধরে গাছে ও ঘরের ভেতর বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও যে চুরির অভিযোগে তাঁদের নির্যাতন করা হয়েছিল, সেই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন রায়গঞ্জ থানার ওসি। এরপর অন্য একটি পুরোনো চুরির মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রায় এক মাস কারাগারে রাখার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ঘটনাটি গত ২৬ জুলাই উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের লক্ষ্মী বিষ্ণুপ্রসাদ খলিফাপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মো. হান্নান খলিফার বাড়িতে চুরি হয়েছে- এমন সন্দেহে তাঁদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়।

সোহাগের দাবি, প্রথমে তাঁকে গাছের সঙ্গে এবং পরে একটি ঘরের সিলিংয়ে উল্টো করে বেঁধে মারধর করা হয়। লোহার প্লাস দিয়ে নখ তুলে ফেলারও অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি বিছানায় রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আশরাফ আলী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। তাঁর ভাষ্য, চুরির অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কাউকে মারধর করার অধিকার কারও নেই।

ঘটনার সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাওয়া রায়গঞ্জ থানার এসআই মোতিন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আপনার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা বলব।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চোর সন্দেহে মারপিট করা দুজনকে উদ্ধার করেছে। তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।

তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করার পর ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর চান্দাইকোনা বাগানবাড়ি এলাকায় সংঘটিত একটি পৃথক চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়। ওই মামলায় প্রায় এক মাস কারাভোগের পর তাঁরা জামিনে মুক্ত হন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, যে চুরির অভিযোগে তাঁদের ধরে নির্যাতন করা হয়েছিল, সেই ঘটনায় মামলা না হলে তাঁদের কেন এবং কীভাবে অন্য একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো? ওই মামলার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার ভিত্তি কী ছিল, এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে হান্নান খলিফা বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে চুরি হয়েছে। তাই তাদের মারধর করা হয়েছে।’ তবে চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি তাঁর বাবার কাছ থেকে জানতে বলেন।

নির্যাতনের ঘটনায় সোহাগের শ্বশুর মো. আশরাফ আলী খলিফা গত ১১ আগস্ট সিরাজগঞ্জ জেলা আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটির নম্বর ১০৬।

রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, গাছে বা ঘরে বেঁধে নির্যাতন একটি অপরাধ। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুরির অভিযোগে নির্যাতনের ঘটনা, ৯৯৯-এ পুলিশের উদ্ধার, ওই ঘটনায় থানায় মামলা না থাকা এবং পরবর্তীতে পৃথক চুরির মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনার এই ধারাবাহিকতা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।#




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad