হিমালয়ের দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের ফল, আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চান নেপালের প্রধানমন্ত্রী

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ দুপুর
  • ৫৪০২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
হিমালয় অঞ্চলে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, এটি কোনো ‘সাধারণ বন্যা’ নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে বরফশীতল পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢল নেমে আসে। এতে অন্তত ৯৩৯ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে ‘কয়েক বিলিয়ন ডলার’ পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে জানিয়েছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু।

সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘রাসুয়া এলাকায় ভোতেকোশি নদীর বন্যা কোনো সাধারণ বন্যা ছিল না। হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল স্তর ধসে পড়ার কারণে এই দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। এটি ছিল এ অঞ্চলের ভয়াবহ বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ।’

হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এতে হিমবাহধস ও আকস্মিক বন্যার মতো দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে হিমালয়ের বরফও আগের তুলনায় দ্রুত গলছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, ‘এ ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে আমরা যেসব ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলোও বাড়ছে। তাই এই অঞ্চলের প্রতি আমাদের সতর্ক নজর রাখতে হবে।’

প্রায় তিন কোটি মানুষের দেশ নেপালের অধিকাংশ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোর তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নে নেপালের অবদান খুবই সামান্য। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বড় একটি অংশ দেশটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেপালের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যেসব দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছি, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরার এখনই সময়।’

হিমালয়ের পানি নির্ভর কোটি কোটি মানুষ

বৃহত্তর হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে নেমে আসা হিমবাহের পানি পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস। একই পানির ওপর দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী অববাহিকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্ভরশীল।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২০২৩ সালে নেপাল সফরের সময় হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ছে।’

সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল বলেন, এই ঘটনা ‘পাহাড়ি পরিবেশ কতটা নাজুক হতে পারে, তার এক ভয়াবহ স্মারক’।

এদিকে বড় ধরনের এই দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের সম্পদ সীমিত। ফলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে গিয়ে দেশটির অর্থনীতি ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad