আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ ও ১১ আগস্ট রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) কাছে পাঠানো নগদ অর্থের হিসাব যাচাইয়ের সময় ওই ঘাটতি শনাক্ত হয়। পিএনবির চিফ ম্যানেজার নিশা সিংহ জানান, হিসাবের গরমিল ধরা পড়ার পর তদন্ত শুরু হলে কারেন্সি চেস্টে থাকা নোট নিয়ে আরও বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য সামনে আসে।
নিয়মিত যাচাইয়ের সময় নিরীক্ষাদল জাল নোটগুলো শনাক্ত করে। পরে পিএনবির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি পুলিশকে জানান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, উদ্ধার হওয়া জাল নোট বাজারে ছাড়া হয়নি এবং ব্যাংকের অন্য কোনো শাখাতেও পাঠানো হয়নি।
ঘটনায় ব্যাংকের চার কর্মকর্তা ও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশে এফআইআর করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। কারেন্সি চেস্ট থেকে কীভাবে আসল নোট সরিয়ে সেখানে জাল নোট রাখা হলো, সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঘটনার পর পিএনবি চার কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বরখাস্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজার ও নোডাল কর্মকর্তা রবি কুমার, কারেন্সি চেস্টের ব্যবস্থাপক সুশীল শর্মা এবং হরিয়ানার জাগাধরির খেরা বাজারের কারেন্সি চেস্ট ব্যবস্থাপক অমিত কুমার। আরও একজন ব্যাংককর্মীর বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ৪ লাখ ৩৬ হাজার রুপির নগদ ঘাটতির ঘটনায় ব্যাংকের পরিচ্ছন্নতাকর্মী বিশাল কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাকে দুটি পৃথক বিষয় হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। ব্যাংকের লেনদেনের নথিপত্রের পাশাপাশি কারেন্সি চেস্টের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে থাকা ভল্টে কীভাবে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ঢুকল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীরা আরও জানার চেষ্টা করছেন, আসল নোটগুলো কখন বদলে ফেলা হয়েছিল এবং জাল নোটগুলো কত দিন ধরে কারেন্সি চেস্টে অশনাক্ত অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ব্যাংকের আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স