বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ‘উদ্যোগ’ প্রচলিত অর্থে কোনো প্রতিযোগিতা নয়। কর্মসূচির আওতায় তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করবে। তাদের ব্যবসায়িক ধারণা ও প্রকৃত অর্থের প্রয়োজন যাচাই করে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে।
ঋণের অর্ধেক অনুদাননির্বাচিত উদ্যোক্তারা প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার অর্থায়ন প্যাকেজ পাবেন। এর অর্ধেক হবে ব্যাংকঋণ এবং বাকি অর্ধেক অনুদান। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার হবে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৭ শতাংশ।
তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অর্থ সুদবিহীন ঋণে রূপান্তরিত হবে। এরপর প্রচলিত নিয়মে ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হবে এবং ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন। পরবর্তী সময়ে নতুন ঋণ পাওয়ার যোগ্যতাও হারাবেন তিনি।
আবেদন করতে পারবেন ২৮ বছর পর্যন্ত বয়সীরাআবেদনের শেষ তারিখে ২৮ বছরের বেশি বয়স নয় এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা—এমন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন। আগে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে।
কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ সব ধরনের বৈধ উদ্যোগকে সমানভাবে বিবেচনা করা হবে।
আবেদনের জন্য কোনো ফি লাগবে না। সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় নির্ধারিত ফরমে আবেদন করা যাবে।
আবেদন শুরু সেপ্টেম্বরেকর্মসূচি বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা সংবলিত সার্কুলার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলার জারির পরবর্তী এক মাস আবেদন গ্রহণ করা হবে।
প্রথম ধাপে আট বিভাগের আট জেলা—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণার ৬৪টি উপজেলায় কর্মসূচি চালু হবে। প্রতিটি উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৬৪০ জন তরুণ উদ্যোক্তা নির্বাচন করা হবে।
পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলার উপজেলাতেও কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। প্রতি বছর ৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তাকে অর্থায়ন ও সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থায়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণকর্মসূচিটি শুধু অর্থায়নে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি অভিজ্ঞ মেন্টরের কাছ থেকে ধারাবাহিক পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা এবং বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে ৩ থেকে ৫ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। এ বিবেচনায় ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)